বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৪ মার্চ ২০২৩ ১৪:৫৩ পিএম
আপডেট : ১৪ মার্চ ২০২৩ ১৬:১১ পিএম
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে জোহা চত্বরের সামনে শিক্ষক ফরিদ উদ্দিনের সঙ্গে শিক্ষার্থীরা সংহতি জানিয়ে অবস্থান নেন। প্রবা ফটো
রাজশাহী
বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) শিক্ষার্থীদের ওপর ব্যবসায়ী ও পুলিশের হামলার প্রতিবাদে খালি
পায়ে দাঁড়িয়ে বিচারের দাবি জানিয়েছেন অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন খান।
মঙ্গলবার (১৪ মার্চ) সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় জোহা চত্বরের সামনে তিনি অবস্থান নেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা সংহতি জানিয়ে তার পাশে অবস্থান নেন।
এদিকে
রাবি প্রশাসনের নির্দেশনায় দুইদিন বন্ধের পর মঙ্গলবার ক্লাস-পরীক্ষা শুরু হলেও ক্লাসে
ফিরে যাননি তিনি।
ফরিদ উদ্দিন খান বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস নেওয়া থেকে বিরত থাকব। মারধরের শিকার হয়ে অনেক শিক্ষার্থী হাসপাতালে রয়েছে। আমার এক শিক্ষার্থী আইসিইউতে আছে। এই অবস্থায় একজন শিক্ষক হিসেবে আমি ক্লাসে ফিরতে পারি না। তাই ক্লাস বন্ধ রেখেছি। শিক্ষার্থীদের ওপর স্থানীয় সন্ত্রাসী ও ন্যাক্কারজনক পুলিশি হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।'
তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে যারা রাবার বুলেট, টিয়ারশেল ছুড়েছে তাদের শাস্তি দ্রুত সময়ের মধ্যে নিশ্চিত করতে হবে। এটা অত্যন্ত অমানবিক ও জঘন্য কাজ। এ ধরনের ঘটনার যেন পুনরাবৃত্তি না হয়। বিশ্বিবদ্যালয়ের হলগুলোসহ বিভিন্ন জায়গায় শিক্ষার্থীরা বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। এটা নিয়ে অভিভাবকরা উদ্বিগ্ন এবং অসহায়ত্ব বোধ করছেন। আমি শিক্ষক হিসেবে ব্যথিত।'
ফরিদ উদ্দিন আরও বলেন, ‘এই ঘটনাকে রাজনৈতিকভাবে ভুল ব্যাখা দেওয়া হচ্ছে। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়রকে আমি অত্যন্ত সম্মান করি। তিনি বলেছেন, যতক্ষণ ছাত্রলীগ সেখানে ছিল, ততোক্ষণ কোনো ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু ৯টার পরে জামায়াত-শিবির এবং বিএনপির উস্কানিতে এমন ঘটনা ঘটে। এতে তিনি দায়িত্বহীনতার পরিচয় দেননি, শিক্ষার্থীদের দাবির আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করেছে। এটা খুব দুঃখজনক।'
ফরিদ উদ্দিন বলেন, ‘সন্ধ্যা ৬টায় ঘটনার সময় পুলিশ সেখানে উপস্থিত ছিল কিন্তু প্রথমে তারা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। পুলিশ প্রথমে অসহযোগিতা আবার পরে ন্যাক্কারজনকভাবে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেছে। বিশ্বিবদ্যালয় প্রশাসনও অনেক সময় পেয়েছে। তারা কোনো শিক্ষার্থীকে ঘরে ফেরাতে পারেনি। ভিসি স্যার দুই দিন ক্লাস পরীক্ষা বন্ধ ঘোষণার পরে প্রক্টরিয়াল বডি চলে গেলেন মিটিংয়ে। তারপরেই রাবার বুলেট এবং টিয়ারশেল ছোড়ার ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থীদের ওই সময় ওখানে রেখে আসা প্রশাসনের ঠিক হয়নি। আমি প্রথমে পুলিশের ব্যর্থতা পরে প্রশাসনের ব্যর্থতা বলে মনে করি।'