বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৪ মার্চ ২০২৩ ১৩:২৭ পিএম
আপডেট : ১৪ মার্চ ২০২৩ ১৩:৪৩ পিএম
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় মাইকিং করে বহিরাগতদের ক্যাম্পাসে প্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। প্রবা ফটো
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) বহিরাগতদের ক্যাম্পাসে প্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে মাইকিং করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।এজন্য শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে শিক্ষার্থীদের মারধরের ঘটনায় ঝন্টু ওরফে জাহাঙ্গীর হোসেন নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৪ মার্চ) সকালের দিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রধান ফটক থেকে ক্যাম্পাস সংলগ্ন শেখপাড়া ও শান্তিডাঙ্গা এলাকায় মাইকিং করে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
বহিরাগতদের হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এএইচএম আলী হাসান দুজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা মামলা করেন। মামলার বিষয়টি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে আজ মঙ্গলবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তিনি।
এ বিষয়ে প্রশাসন একটা লিখিত আদেশ দিয়েছেন। আদেশে বলা হয়েছে, নিরাপত্তার স্বার্থে আজ মঙ্গলবার হতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ক্যাম্পাসে বহিরাগত প্রবেশ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হলো। সেই সাথে বিশবিদ্যালয় অধ্যায়নরত সকল শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখার জন্য বলা হলো। এ নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শৈলকূপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, ' বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দুজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত পরিচয়ে ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন ঝন্টু ওরফে জাহাঙ্গীর হোসেন নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহাদাৎ হোসেন আজাদ বলেন, 'শিক্ষার্থীদের একটি দাবি ছিল বহিরাগতদের প্রবেশ নিষিদ্ধ। বহিরাগতদের দ্বারা কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যাতে না ঘটে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি নষ্ট ও মাদকাসক্তদের আড্ডাখানায় যাতে পরিণত না হয় সেজন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।'
গতকাল সোমবার তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে মারধর করে বহিরাগত তিন-চারজন। অভিযুক্তদের বিচারের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে আগুন জ্বালিয়ে আন্দোলন করেন শিক্ষার্থীরা। সেই সাথে প্রশাসনের বৈঠকে এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিরাগতদের অনুপ্রবেশ বন্ধ করা চেয়ে তিন দফা দাবি জানান তারা। পরবর্তীতে পুলিশ কর্মকর্তা ও উপাচার্যের দাবী মেনে নেওয়ার আশ্বাসে আন্দোলন স্থগিত করেন শিক্ষার্থীরা।