বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৪ মার্চ ২০২৩ ০০:০৩ এএম
আপডেট : ১৪ মার্চ ২০২৩ ১০:৫২ এএম
ইবি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে তিন দফা দাবিতে আন্দোলন করেন শিক্ষার্থীরা। প্রবা ফটো
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) দুই শিক্ষার্থীকে বহিরাগতরা মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে তিন দফা দাবিতে সোমবার (১৩ মার্চ) সন্ধ্যা সোয়া ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। পরে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) ফরহাদ হোসেনের আশ্বাসে সড়ক ছেড়ে দেন তারা।
শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হলো শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার বিচার, নিরাপদ ক্যাম্পাস ও বহিরাগতমুক্ত ক্যাম্পাস নিশ্চিত করা।
এর আগে সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের শেখপাড়া বাজারে মারধরের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ ওঠে।মারধরের শিকার দুই শিক্ষার্থী হলেন ম্যানেজমেন্ট বিভাগের জিশাদ ও ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের সুপ্ত। বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিয়ে বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের দাবি যৌক্তিক। ইতোমধ্যে আমাদের পুলিশের সব সোর্স কাজ শুরু করেছে। আজ রাতের মধ্যেই তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছি।’
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘আমাদের ক্যাম্পাসের দুজন ছাত্র আজ বিকালে ক্যাম্পাসের শেখপাড়া বাজারে বাইকের তেল আনতে গেলে স্থানীয়দের দ্বারা হামলার শিকার হন। আমরা হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।’
আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা ‘হই হই রই রই, হামলাকারী গেলি কই’, ‘আমার ক্যাম্পাস আমার থাক, বহিরাগত নিপাত যাক’, ‘আমার ভাই আহত কেন? প্রশাসন জবাব চাই’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।
আহত সুপ্ত বলেন, ‘দুপুরে মফিজ লেকে ঘুরতে গেলে সেখানে বহিরাগত স্থানীয় দুই যুবক এসে বান্ধবীদেরসহ ভিডিও ধারণ করে। তাদের ভিডিও ডিলিট করতে বললে আমাদের ওপর তেড়ে আসে। এ নিয়ে বাগবিতণ্ডা হলে তারা আমাদের দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়। পরে বিকালে শেখপাড়ায় বাইকের তেল নিতে গেলে স্থানীয় আকাশসহ চার-পাঁচ জন আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা করে।’
ইবি মেডিকেলের অফিসসহায়ক খন্দকার নাইমুল রেজা জানান, সন্ধ্যায় আহত অবস্থায় দুজনকে মেডিকেলে আনা হয়। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কুষ্টিয়া সদরে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে আন্দোলন চলাকালে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহাদৎ হোসেন আজাদসহ প্রক্টরিয়াল বডির অন্য সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এ সময় তারা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে সমাধানের চেষ্টা করলে শিক্ষার্থীরা প্রক্টরের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। পরে প্রক্টর পুলিশের প্রটোকলে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আননূর যায়েদ বলেন, ‘আমরা বিষয়টি শুনে ঘটনাস্থলে এসেছি। শেখপাড়াসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’