নেত্রকোণা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ মার্চ ২০২৩ ১৯:২২ পিএম
আপডেট : ১৩ মার্চ ২০২৩ ১৯:৫১ পিএম
মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় দ্বিতীয় আসিফ রহমান। প্রবা ফটো
আসিফ রহমান এবারের মেডিকেলের ভর্তি পরীক্ষায় দ্বিতীয় হয়েছেন। তার এ সফলতার পেছনে অবশ্য কঠোর পরিশ্রম ও ত্যাগের গল্প রয়েছে। এতে এসেছে কাঙ্ক্ষিত ফল। দারুণ সাফল্যের পর তিনি এবার স্বপ্ন দেখছেন নিউরো সার্জন হওয়ার। এমন চিকিৎসক হয়ে তিনি মানুষের সেবাই করতে চান।
সোমবার (১৩ মার্চ) দুপুরে মুঠোফোনে আসিফ রহমানের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এমন ইচ্ছার কথা জানান।
আসিফ রহমান বলেন, ‘ছোট চাচাকে দেখে চিকিৎসা পেশার প্রতি আমারও বেশ আগ্রহ জন্মায়। আমার মাও সব সময় চাইতেন আমি যেন মেডিকেলে পড়ি। তাই নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় থেকেই আমার মনে হয়েছে আমাকে ভালো কিছু করতে হবে। নিউরো বিষয়গুলো ভালো লাগে, আমার তাই ভবিষ্যতে নিউরো সার্জন হতে চাই।’
২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় ফলাফলে ১০০ নম্বরের নৈর্ব্যক্তিকের মধ্যে আসিফ রহমান ৮৯ দশমিক ৫ নম্বর পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছেন।
আসিফ নেত্রকোণার পূর্বধলা উপজেলার আগিয়া গ্রামের মো. মিজানুর রহমান ও আফরোজা বেগম দম্পতির বড় ছেলে। আসিফ রহমানের বাবা সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং মা ময়মনসিংহের ফুলপুর মহিলা কামিল মাদ্রাসার জীববিজ্ঞানের প্রভাষক। ময়মনসিংহ শহরের কিষ্টপুর দৌলত মুন্সি সড়ক এলাকায় তাদের বসবাস।
আসিফের পরিবারের বরাতে জানা গেছে, মিজানুর রহমান ও আফরোজা বেগম দম্পতির তিন ছেলে-মেয়ে। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় মনোযোগী ছাত্র আসিফ। তিনি ময়মনসিংহ জেলা স্কুল থেকে এসএসসি ও আনন্দমোহন কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা থেকে এইচএসসি সব পাবলিক পরীক্ষায় আসিফ জিপিএ-৫ পেয়েছেন। এখন চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবা করতেন চান তিনি।
এ বিষয়ে গতকাল আসিফের বাবা মিজানুর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হয়। এ সময় বাবার ফোনেই কথা হয় আসিফ ও তার মা আফরোজার সঙ্গেও।
আসিফের বাবা মিজানুর রহমান বলেন, আসিফের মার ইচ্ছা ছিল, ছেলে চিকিৎসক হবেন। মায়ের স্বপ্নই পূরণ হতে যাচ্ছে। আসিফের ছোট চাচা ওয়াহিদুর রহমান ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের নিউরো বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। আমি চাই ছেলে চিকিৎসক হোক বা অন্য কোনো পেশায় থাকুক, সে যেন একজন সংবেদনশীল ভালো মানুষ হয়।
আসিফ রহমানের মা বলেন, চিকিৎসক হতে হলে প্রচুর পড়াশোনা করতে হয়। তাই সব সময় ছেলের পাশে থেকে তাকে লেখাপড়া করতে উদ্বুদ্ধ করেছি। মনে হচ্ছে আমার স্বপ্ন পূরণ হতে চলছে।
আসিফ রহমান বলেন, কলেজে ভর্তির পর থেকেই মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে শুরু করি। একাডেমিক পড়ালেখার পাশাপাশি ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতিও নিয়েছিলাম। ভর্তি পরীক্ষায় দ্বিতীয় হতে পেরে খুবই ভালো লাগছে।
তিনি আরও বলেন, পরিশ্রম করলে অবশ্যই ভালো ফল পাওয়া যায়। আমার ক্ষেত্রে এই কথাই প্রযোজ্য। এ ছাড়া আমার ওপর সৃষ্টিকর্তার রহমত ছিল। সে জন্য এমন ফলাফল করতে পেরেছি।