রেললাইনে রাবি শিক্ষার্থীদের আগুন
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ মার্চ ২০২৩ ০৯:৩৯ এএম
আপডেট : ১৩ মার্চ ২০২৩ ২০:৫২ পিএম
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) রেললাইন থেকে শিক্ষার্থীরা সরে যাওয়ার পর মধ্যরাতে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সংঘর্ষের জেরে বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা রাত ৮টার দিকে চারুকলা রেললাইনে অগ্নিসংযোগ করলে ঢাকা-রাজশাহী রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। লাইন মেরামতের পর রাত ২টার দিকে আবার ট্রেন চলাচল শুরু হয়।
বোয়ালিয়া জোনের উপপুলিশ কমিশনার আরেফিন জুয়েল প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে তথ্য ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু ছাত্র রেললাইনে আগুন দিয়েছে। এটা রাষ্ট্রীয় সম্পদ। তারা (শিক্ষার্থীরা) লাইনের ওপরে কাঠে আগুন দিয়েছিল। সেটা আমরা নিভিয়ে দিয়েছি। রাতে নিরাপত্তার জন্য এখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে; যাতে এ ঘটনা আর না ঘটে।’
আরও পড়ুন : এবার রেললাইনে আগুন দিলেন শিক্ষার্থীরা, রাজশাহীর সঙ্গে ট্রেন চলাচল বন্ধ
রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার আব্দুল করিম বলেন, ‘লাইনের ৯০টির বেশি স্লিপার ক্লিপ খুলে ফেলা হয়েছিল। রাত ২টা পর্যন্ত মেরামত কাজ করা হয়। এরপর আবার ট্রেন চলাচল শুরু হয়।’
এর আগে শনিবার রাতেও রেলপথ অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। এতে সেদিন সাড়ে তিন ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল।
জানা গেছে, এর আগে সন্ধ্যার দিকে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে মহাসড়ক থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে চারুকলা অনুষদ-সংলগ্ন ঢাকা-রাজশাহী রেলপথের ওপর অবস্থান নেন। এ সময় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। একপর্যায়ে রেললাইনে আগুন ধরিয়ে দেন বিক্ষোভকারীরা। এতে ৮টার দিকে ঢাকার সঙ্গে রাজশাহীর রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। পরে বোয়ালিয়া জোনের উপপুলিশ কমিশনার আরেফিন জুয়েল ঘটনাস্থলে যান। রাত প্রায় ১২টার দিকে শিক্ষার্থীরা রেললাইন থেকে সরে যান। পরে রাত ২টা পর্যন্ত লাইন মেরামতে কাজ করে রেল কর্তৃপক্ষ।
আরও পড়ুন : রাবিতে সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার
শনিবার বাস কন্ডাক্টরের সঙ্গে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রের সামান্য কথা কাটাকাটির জের ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে। দুই পক্ষের ‘শক্তি প্রদর্শনের খেলা’ চলে মধ্যরাত পর্যন্ত। দফায় দফায় সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় বিনোদপুর এলাকা। ইটপাটকেলের আঘাতে উভয় পক্ষের দুইশ জন আহত হন। পুলিশ বক্সসহ বেশকিছু দোকানে আগুন দেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মোতায়েন করা হয় বিজিবিও। বাতিল হয় ট্রেনের যাত্রা।
এ ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় ৩০০ থেকে ৪০০ জনকে আসামি করে মামলা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পুলিশ গ্রেপ্তার দেখিয়েছে একজনকে।