মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম
চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ১৩ মার্চ ২০২৩ ০১:১৭ এএম
আপডেট : ১৩ মার্চ ২০২৩ ০১:১৭ এএম
রাফসান জামান।
রাফসান জামান। এবারের মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষায় হয়েছেন দেশসেরা। অবশ্য এই সফলতার আড়ালে আছে অসংখ্য শ্রম ও ত্যাগের গল্প। তবুও নিজের এমন সাফল্যে বিস্মিত তিনি। তবে পাখা মেলেছে আরেক স্বপ্ন; হতে চান দেশসেরা নিউরোলজিস্ট। মানুষের সেবাই যেন ব্রত হয় এখন সেই কামনা তার।
রাফসানের গ্রামের বাড়ি রংপুর জেলায়। তার জন্মের পর পরিবার চলে আসে চট্টগ্রাম। বেড়ে উঠেছেন এই নগরীতেই। পরিবারের সঙ্গে এখন থাকেন চট্টগ্রামের হালিশহরের কে-ব্লকের একটি বাসায়। পরিবারের সদস্য বাবা, মা ও এক বোন। বাবা এ কে এম শামসুজ্জামান সিটি গ্রুপ অব কোম্পানিজের উপমহাব্যবস্থাপক।
গতকাল রবিবার প্রকাশিত সরকারি ও বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় রাফসানের টেস্ট স্কোর ছিল ৯৪ দশমিক ২৫। মেরিট স্কোর ২৯৪ দশমিক ২৫। মেধাতালিকায় প্রথম হিসেবে তিনি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে সুযোগ পেয়েছেন।
মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষায় দেশসেরা হয়েও বিস্মিত রাফসান জামান। তিনি বলেন, ‘আমি সব সময় আত্মবিশ্বাসী। বিশ্বাস ছিল মেডিক্যালে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাব। কিন্তু প্রথম হবো তা আমি কখনও ভাবিনি।’
ছোটবেলা থেকে পড়ালেখার প্রতি কখনও রাফসানের আগ্রহের কমতি ছিল না। তার পড়ালেখা নিয়ে খুব একটা ভাবতে হয়নি পরিবারের সদস্যদের। স্কুল জীবন থেকে সেই স্বাক্ষর রেখে চলেছেন তিনি। রাজশাহী ক্যাডেট কলেজ থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্নের ডালপালা গজানো শুরু কলেজ জীবন থেকে। সে জন্য তাকে দিতে হয়েছে মানসিক শ্রম, ত্যাগ করতে হয়েছে অনেক কিছুই।
রাফসান বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে স্বপ্ন ছিল চিকিৎসক হবো। সে লক্ষ্যে আমি প্রস্তুতি নিতে থাকি। স্কুল শেষ করে কলেজে উঠি। কলেজে উঠে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশপাশি শুরু করি মেডিক্যালের প্রস্তুতি। কলেজ শেষ মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষার জন্য জীবনের সর্বোচ্চ পরিশ্রম করেছিলাম।’
রাফসান জানিয়েছেন আগামীর স্বপ্নের কথা। তিনি বলেন, ‘আমার নিউরোলজি নিয়ে পড়ার ইচ্ছা। আমার স্বপ্ন একদিন দেশসেরা নিউরোলজিস্ট হবো। দেশের সুনাম বৃদ্ধি করব। আমার সব চেষ্টা, পরিশ্রম যেন সবসময় মানুষের কল্যাণে হয়। মা-বাবা আমার জন্য অনেক কষ্ট করেছেন। তারা আমার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা।’
স্কুল-কলেজ শেষ করে রাফসান পা দিয়েছেন শিক্ষা জীবনের সবচেয়ে বড় গণ্ডিতে। তবে এখনও তার হাতে নেই কোনো স্মার্টফোন। তিনি বলেন, ‘আমি কখনোই স্মার্টফোনের প্রতি আশক্ত ছিলাম না। আমার ফেসবুক একাউন্ট ছিল। সেটি মেডিকেলে ভর্তির প্রস্তুতি নেওয়ার সময় ডিঅ্যাক্টিভ করে দিয়েছিলাম। এখনও আমার কোনো স্মার্টফোন নেই। ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় গুরুত্বপূর্ণ কিছু জানার প্রয়োজন হলে তখন বাবার ফোন দিয়ে তা দেখে নিতাম।’