রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ মার্চ ২০২৩ ১৯:২৭ পিএম
আপডেট : ১২ মার্চ ২০২৩ ০৮:৩৩ এএম
বিনোদপুরে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। প্রবা ফটো
বাস শ্রমিকদের সঙ্গে কথা কাটাকাটির জেরে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীদের দফায় দফায় সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে বিনোদপুর এলাকা। ইটপাটকেলের আঘাতে উভয় পক্ষের অন্তত ৮৫ জন আহত হয়েছেন। পুলিশ বক্সসহ বেশ কিছু দোকানে আগুন দিয়েছেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। লাঠিচার্জের পাশাপাশি অস্ত্রসজ্জিত যান মোতায়েন করেছে পুলিশ। রাজশাহী থেকে ছেড়ে যাওয়া ধূমকেতু এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রা বাতিল করা হয়েছে। শনিবার (১১ মার্চ) মধ্যরাতে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
রাজশাহী বিজিবির সিইও লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাব্বির আহমেদ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানান, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মোট ৭ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে বিনোদপুর এলাকার আশপাশে।‘
পশ্চিমাঞ্চল রেলের জিএম অসীম কুমার তালুকদার জানান, ‘প্রশাসনের নির্দেশনা অনুসারে রাজশাহী থেকে ছেড়ে যাওয়া ধূমকেতু এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রা বাতিল করা হয়েছে। পরবর্তীতে প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে ট্রেন চলাচলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
যেভাবে ঘটনার শুরু
মতিহার থানার সহকারী কমিশনার (এসি) আবুল কালাম আজাদ শনিবার সন্ধ্যায় প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘বগুড়া থেকে বাসে রাজশাহী আসছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৭-১৮ সেশনের শিক্ষার্থী আলামিন আকাশ। বাসে বসাকে কেন্দ্র করে গাড়ির চালক শরিফুল ও সুপারভাইজার রিপনের সঙ্গে কথাকাটাকাটি হয় তার। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিনোদপুর গেটে এসে ফের বাস কন্ডাক্টরের সঙ্গে ঝামেলা বাধে আকাশের। তখন স্থানীয় এক দোকানদার এসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তর্কে জড়ান। সেখানে ছুটে আসেন অন্য ব্যবসায়ীরাও। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ঘটে। তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা জড়ো হন এবং স্থানীয় দোকানদারের ওপর হামলা চালান।

‘একপর্যায়ে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ শুরু হয়। উভয় পক্ষ ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। এতে অন্তত ৪০ জন আহত হন। মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে ডেকে নেওয়া হয় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের।’

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বিনোদপুর এলাকায় ছুটে যান। সেখানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তারও পৌঁছান। এরপর বিনোদপুর বাজার ব্যবসায়ী সমিতি ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে মেয়র লিটন আলোচনায় বসেন। কিছুক্ষণ পর সেখানে পুলিশ কমিশনার আনিসুর রহমান যান।
পুলিশ কমিশনার পৌঁছার পর ব্যবসায়ীরা বিনোদপুর বাজার এলাকা ছেড়ে যান। তবে তারা যাওয়ার আগে হামলার শঙ্কা প্রকাশ করতে থাকেন। ব্যবসায়ীরা চলে যাওয়ার পর পুলিশ শিক্ষার্থীদেরকে বিনোদপুর গেট থেকে সরে যেতে বললে তারা পুলিশের ওপর চড়াও হয়। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা বিনোদপুর সড়কে নেমে আসেন। তারা অন্তত ২০টি দোকান ভাঙচুর করার পাশাপাশি আগুন দেন। তখন পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এতে অন্তত ২০ শিক্ষার্থী আহত হন।
সংঘর্ষে গুরুতর আহতদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। রামেকের পুলিশ বক্সের ইনচার্জ এসআই মুকুল হোসেন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘রাত পৌনে ১২টা পর্যন্ত ৮৫ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। কয়েকজন হাসপাতালে ভর্তি আছেন।’
মূল সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার চরম বিপাকে পড়েন দূরপাল্লার যাত্রী ও চালকরা। বিকল্প পথে ভদ্র ও মেহেরচণ্ডী হয়ে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।
রাজশাহী মহানগর পুলিশের কমিশনার আনিসুর রহমান বলেন, ‘তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিনোদপুর এলাকাবাসীর সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আমরা কাজ করছি।’
রাবিতে ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত
বাস শ্রমিকদের সঙ্গে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কথা কাটাকাটিকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের সংঘর্ষের পর দুদিনের জন্য ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার শনিবার রাতে সাংবাদিকদের বলেন, ‘উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে রবি ও সোমবারের সব ধরনের পরীক্ষা ও ক্লাস স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।’
পরে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. হুমায়ুন কবীরও সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।