শাবিপ্রবি প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৮ মার্চ ২০২৩ ১৭:৩৭ পিএম
আপডেট : ০৮ মার্চ ২০২৩ ২০:৩১ পিএম
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। সংগৃহীত
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের দ্বন্দ্বে মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব দপ্তরের কর্মকর্তা মৃন্ময় দাশ ঝুটনকে। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি সিলেট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দ্বিতীয় আদালতের বিচারক মো. সুমন ভূঁইয়ার আদালতে ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতপরিচয় সাত-আট জনকে আসামি করে এই মামলা করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রাউফুন জাহান মামলাটির আবেদন করেন। এর ১১ দিন পরে মঙ্গলবার (৭ মার্চ) ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে করা মামলা ‘হয়রানিমূলক’ উল্লেখ করে বিবৃতি দিয়েছে শাবিপ্রবির কর্মকর্তা পরিষদের একাংশ।
মঙ্গলবার শাবিপ্রবির মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ কর্মকর্তা পরিষদের সভাপতি এ এস এম খয়রুল আক্তার চৌধুরী ও সদস্য সচিব শাহাদাত হোসেন চৌধুরী সাক্ষরিত এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ কর্মকর্তা পরিষদের সদস্য ও হিসাব দপ্তরের অডিট অ্যান্ড একাউন্টস অফিসার মৃন্ময় দাশ ঝুটনের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন ও হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করায় পরিষদ নিন্দা জ্ঞাপন করছে। এ ধরনের ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিনষ্টের ইঙ্গিত।’
বিবৃতিতে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।
এদিকে রাউফুন জাহানের করা ওই মামলার আবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতি বছর বিভিন্ন সেশনে বিভিন্ন ধরনের ইন্টার ডিপার্টমেন্ট টুর্নামেন্টের আয়োজন হয়ে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৯ ব্যাচ গত ৭ ফেব্রুয়ারি একটি ইন্টার ডিপার্টমেন্ট ক্রিকেট টুর্নামেন্টের আয়োজন করে। টুর্নামেন্ট শুরুর আগের দিন রাত পৌনে ৯টার দিকে টুর্নামেন্টের খেলার মাঠ পরিচর্যা ও দেখভালের জন্য কয়েকজন শিক্ষার্থীসহ কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে যান রাউফুন। এসময় কিছু ছেলেকে খেলার মাঠের মধ্যে বসে আড্ডা দিতে দেখেন। রাউফুন তাদেরকে খেলার মাঠের ক্রিজ থেকে সরে যাওয়ার অনুরোধ জানান। এতে করে তারা রাউফুনের উপর চড়াও হয় এবং হুমকি দিয়ে চলে যায়। এর কিছুক্ষণ পরে তারা সংঘবদ্ধ হয়ে আবার খেলার মাঠে ফিরে আসে এবং মৃন্ময় দাশ ঝুটনের ‘হুকুমে’ রাউফুন ও উপস্থিত সাক্ষীদের ওপর হামলা চালায়।
এ ঘটনায় করা মামলার অন্য আসামিরা হলেন ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ফারদিন কবির জীম, রসায়ন বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের মুহাইমিন হেলাল ইফাত, ইংরেজি বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের মেহেদী হাসান শুভ, রসায়ন বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের মোস্তফা সাজ্জন, অর্থনীতি বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের নাজমুল হুদা শুভ, রসায়ন বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের মেহেদী হাসান স্বাধীন, পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের নাজমুল হাসান, সমাজকর্ম বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের দিপু রায়, ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টি টেকনোলজি বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের কুদরতে-ইলাহী, নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের দীপ্ত রায়, পরিসংখ্যান বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের তানিম হোসেন, ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের রাকিবুল হাসান, গণিত বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের রাকিব হোসেন এবং বাংলা বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের হৃদয় কুমার মাহত।
গত ৬ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে কথা কাটাকাটির জেরে শাহপরাণ হলে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে সাবেক উপ-দপ্তর সম্পাদক সজীবুর রহমানের অনুসারীদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলার আবেদন করেন আরেক ছাত্রলীগ নেতা মেহেদী হাসান স্বাধীনের সমর্থক ফারদিন কবির। এরপর ২৩ ফেব্রুয়ারি পাল্টা মামলা করেন সজীবুর রহমানের অনুসারী রাউফুন জাহান। হিসাব দপ্তরের কর্মকর্তা মৃন্ময় দাশ ঝুটন শাবিপ্রবির ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। ছাত্রাবস্থায় তিনি শাবিপ্রবি ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।