বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৪ মার্চ ২০২৩ ০০:১৩ এএম
এসএম এহসান উল্লাহ ওরফে ধ্রুব। সংগৃহীত ফটো
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) এক ছাত্রলীগ নেতাকে শ্রেণিকক্ষে অপমান করার অভিযোগ উঠেছে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক তানজীমউদ্দিন খানের বিরুদ্ধে। পরে এসএম এহসান উল্লাহ ওরফে ধ্রুব নামে ওই ছাত্রলীগ নেতা আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। বৃহস্পতিবার (২ মার্চ) রাত ২টার দিকে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ হলের পুকুর পাড় থেকে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়।
এর আগে সন্ধ্যার পর ফেসবুকে আত্মহত্যার স্ট্যাটাস দিয়ে নিখোঁজ হন ধ্রুব। মধ্যরাতে তার সন্ধান ও অভিযুক্ত শিক্ষকের বিচার দাবিতে ছাত্রলীগ নেতারা উপাচার্যের বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ করেন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত বলেন, একজন শিক্ষক কখনো শিক্ষার্থীকে শ্রেণিকক্ষে অপমান করার অধিকার রাখেন না। তিনি ব্যক্তিগত রাজনৈতিক মতাদর্শ ছেলেদের মাঝে ছড়ানোর চেষ্টা করতেন। আমরা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ধ্রুবকে হাসপাতালে না নিলে সে মারা গেলে তার দায় সম্পূর্ণ শিক্ষকের ছিল। তখন তিনি কী জবাব দিতেন?
এদিকে আত্মহত্যার চেষ্টা করা ধ্রুব তানজীমউদ্দিন খানকে তার দেখা সবচেয়ে ভালো শিক্ষকের একজন বলে মন্তব্য করেছেন। শুক্রবার বিকালে দেওয়া এক ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার কথোপকথনের সময় বলেছিলেন, ‘স্যার, ফুচকা খাওয়ালে তো আর আমাকে যে অন্যায়ভাবে অপমান করা হলো, সেটা ঠিক হয়ে যাবে না।’
তিনি আরও লিখেন, ‘স্যারের (তানজীমউদ্দিন) কাছে আমি গিয়েছিলাম তিনদিন আগে। আমার নামে তার কাছে মিথ্যা অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল। সেই পরিপ্রেক্ষিতে আমি যে দোষী না, সেটা বলতে গিয়েছিলাম। স্যারের মুখ থেকেই শুনলাম যে আমি ছাত্রলীগ করি, ছাত্রলীগের বড় বড় নেতারা আমাকে চেনেন। স্যার আমার দেখা সবচেয়ে ভালো একজন শিক্ষক। তার কাছে ছাত্রলীগ ট্যাগ আমার বিরুদ্ধে ব্যবহার করে কান ভারী করা হয়। আমি আমার পক্ষের সব কথা স্যারকে বলি। প্রমাণসহ সেগুলো স্যারকে দেখাতে চেয়েছিলাম। স্যার সেগুলো দেখতে চাননি। বৃহস্পতিবার ক্লাস শেষে স্যার আমাকে দাঁড়াতে বলেন। গুজব কারা ছড়িয়েছে, জানতে চান তিনি। আমি বলি যে প্রমাণ হিসেবে আমি স্ক্রিনশট দেখাতে পারব, কিন্তু বন্ধুদের নাম বলতে পারব না। এরপর স্যার সবার সামনে আমাকে খুব বাজেভাবে অপমান করেন, এমনকি আমার ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও অপমান করেন। তিনি আমাকে কিছুই বলতে দেননি।’
ধ্রুব আরও লেখেন, ‘স্যারকে কাঁদতে কাঁদতে বলি যে আমি তো এই কাজ করিনি। আপনি কেন সবার সামনে এভাবে অপমান করলেন? স্যার তখনো আমার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করলেন। তখন স্যারকে আমি বলি, যদি আজকে আত্মহত্যা করে বসি, তার দায়ভার আপনার। স্যার তখন আমাকে কয়েকবার ডাকেন। আমি ডাক না শুনে চলে আসি। নিচে গিয়ে দেখি স্যার আমাদের কয়েকজন ব্যাচমেটের সঙ্গে দাঁড়িয়ে আছেন। এক সহপাঠী অনুরোধ করে আমাকে স্যারের কাছে নিয়ে যায়। স্যার জোর করে ধরে নিয়ে গিয়ে ফুচকা খাওয়ান।’
এ বিষয়ে তানজীমউদ্দিন বলেন, আমি শিক্ষার্থীদের নিয়ে ফিল্ডট্রিপে গিয়েছিলাম। পরে জানতে পারি ধ্রুব তার এক সহপাঠীকে নিয়ে অশ্লীল ভাষায় মিথ্যা তথ্য ছাড়াচ্ছে। পরশু সে আমার রুমে আসে এবং আমি তাকে সাধারণভাবে এ বিষয়ে সতর্ক করে দিই। পরে জানতে পারি ধ্রুব ওই সহপাঠীকে পছন্দ করত। তাকে সে প্রেমের প্রস্তাবও দিয়েছে। রাজি না হওয়ায় সে ক্ষুব্ধ ছিল। আমি তাকে বুঝিয়েছি, বিকালে ফুচকা খাইয়েছি। তার মায়ের সঙ্গেও কথা হয়েছে। অথচ রাতে ফেসবুকের একটি পোস্টে আত্মহত্যার কথা উল্লেখ করেছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম গোলাম রব্বানী বলেন, ক্লাসের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফেসবুক স্ট্যাটাসে আত্মহত্যার চেষ্টা করা শিক্ষার্থীকে রাতে উদ্ধার করে আমরা চিকিৎসার জন্য পাঠাই। এ নিয়ে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে আন্দোলনও হয়েছে। আমরা তাদের তদন্তের আশ্বাস দিলে তারা আন্দোলন উঠিয়ে নেয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান গোলাম রব্বানী।