বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ২১:১৪ পিএম
আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ২৩:৪০ পিএম
কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। সংগৃহীত ফটো
কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আবাসিক হলে বিবস্ত্র করে ছাত্রী নির্যাতনের ঘটনায় করা তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি তদন্ত কমিটি। শনিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) তদন্ত ও পর্যালোচনা শেষ হলেও প্রশাসন বরাবর তা জমা দিতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটি।
এদিকে, শনিবার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া সম্ভব হবে না বলে গত শুক্রবারই গণমাধ্যমকর্মীদের জানিয়েছিলেন তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব আলীবদ্দীন খান।
ছাত্রী নির্যাতনের নানা দিক খতিয়ে দেখতে শনিবার তৃতীয় দিনের মতো তথ্য-উপাত্ত নিয়ে পর্যালোচনায় বসে তদন্ত কমিটি। আইন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. রেবা মন্ডলের কক্ষে কমিটির সদস্যদের একত্রিত হওয়ার কথা থাকলেও তারা অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. দেবাশীষ শর্মার কক্ষে বসেন।
পর্যালোচনায় আরও উপস্থিত ছিলেন তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. রেবা মন্ডল, সদস্য অধ্যাপক ড. দেবাশীষ শর্মা, অধ্যাপক ড. ইয়াসমিন আরা সাথী, সদস্য ও সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. মুর্শিদ আলম ও সদস্য সচিব একাডেমিক শাখার উপরেজিস্ট্রার আলীবদ্দীন খান।
এ বিষয়ে সকালে তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব আলীবদ্দীন খান বলেন, ‘আমরা খুবই ব্যস্ত আছি। কাজ শেষ করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।’ পরবর্তীতে বিকাল ও সন্ধ্যায় একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
ছাত্রলীগের তদন্ত কমিটির ডাকে নিরাপত্তাহীনতায় ভুক্তভোগী : অন্যদিকে, নির্যাতনের ঘটনায় গত ১৫ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে ঘটনার তদন্তের জন্য শাখা ছাত্রলীগ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ছাত্রলীগের গঠিত তদন্ত কমিটির ডাকে রবিবার সকালে ক্যাম্পাসে আসার কথা রয়েছে ভুক্তভোগী ছাত্রী ফুলপরী খাতুনের। শনিবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহসভাপতি ও ছাত্রলীগের তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক কামরুল ইসলাম অনিক এ তথ্য জানান।
তবে ফুলপরী নিরাপত্তার কথা ভেবে ছাত্রলীগের তদন্ত কমিটির সঙ্গে কোনো কথা বলবেন না বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি যেতে চাচ্ছিনা। ছাত্রলীগের ওপর আমার ভরসা নেই। আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দিয়েছে প্রক্টর স্যার। তার সঙ্গে আমার নিয়মিত কথা হচ্ছে। এ বিষয়ে স্যার আমাকে কিছু বলেননি। আমি যেতে পারব না।’
এ বিষয়ে ছাত্রলীগের তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক বলেন, ‘আমাদের তদন্ত কার্যক্রম রবিবার শেষ হবে। তদন্তের স্বার্থে সকালে ফুলপরীকে ডাকা হয়েছে। ফুলপরীর সাক্ষাৎকার নিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।’
প্রসঙ্গত, গত ১২ ফেব্রুয়ারি দেশরত্ন শেখ হাসিনা হলের গণরুমে ফুলপরী খাতুনকে রাতভর আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়।