ইবি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১২:৩৩ পিএম
আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৬:৫৪ পিএম
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে আন্দোলন করছেন অস্থায়ী চাকুরীজীবী পরিষদ। প্রবা ফটো
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুস সালামের অপসরণের দাবিতে ফের তার কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে আন্দোলন শুরু হয়েছে। সোমবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে অস্থায়ী চাকুরীজীবী পরিষদ এ আন্দোলন করছে। একই সময় উপাচার্যের বাসভবনে তালা দেওয়া হয়েছে।
অস্থায়ী চাকুরীজীবী পরিষদের সভাপতি মিজান টিটু ও সাধারণ সম্পাদক রাসেল জোয়ার্দারের নেতৃত্বে প্রায় ৩০-৩৫ জন আন্দোলন করেন। আন্দোলনরত সকলে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক নেতা।
এ সময় তারা উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে অপসারণের দাবি করেন।
উপাচার্যের কন্ঠ সদৃশ নিয়োগ সংক্রান্ত বেশকিছু কথোপকথন কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার এইচ এম আলী হাসান ইবি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।
আন্দোলনরত অস্থায়ী চাকরীজীবী পরিষদের সভাপতি মিজান টিটু বলেন, আমরা দুর্নীতিবাজ উপাচার্যের অপসরণ চাই। তিনি ছাত্রলীগ ও বঙ্গবন্ধু নিয়ে বিদ্রূপ মন্তব্য করেছেন। ছাত্রলীগ নেতাদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহাদৎ হোসেন আজাদ বলেন, আমরা আন্দোলনরতদের সাথে কথা বলে সমাধানের চেষ্টা করছি। ভিসি মহোদয়ের কক্ষ স্ক্যান করবো। কীভাবে তার সাদৃশ্য কণ্ঠে অডিও ফাঁস হচ্ছে তা খোঁজ নেব।
কার্যালয়ে ও বাসভবনে তালা দেওয়ার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালাম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘কে বা কারা তালা দিয়েছে সেটা বলতে পারছি না। সকালে আমাকে জানানোর পর থেকে সেখানে তালা লাগানো আছে, খোলা হয়নি।’
ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উপাচার্যের সঙ্গে সাংবাদিকতা বিভাগের একজন চাকরিপ্রার্থী ব্যক্তির কথোপকথনের বেশকিছু অডিও ফাঁস হয়। সেখানে উপাচার্যকে বলতে শোনা যায় টাকা দিয়ে হলেও দুইজন প্রার্থী সংগ্রহ করার কথা। এছাড়াও নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন বিষয়ক আলাপন করতে শোনা যায়।
পরে আরও একটি আইডি থেকে বেশকিছু কথোপকথনের অডিও ফাঁস হয়। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ছাত্র, কর্মকতা, কর্মচারী ও ছাত্রলীগ সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করতে দেখা যায়। গতকাল রবিবার আবারও হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট ও ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের অডিও ফাঁস হয়, সেখানে তাকে নিয়োগ সংক্রান্ত কথা বলতে শোনা যায়।