বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১২:০০ পিএম
আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১২:৪৮ পিএম
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের শৌচাগারের বেহাল অবস্থা। প্রবা ফটো
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) বেহাল অবস্থা অধিকাংশ শৌচাগারের। সমস্যা সমাধান না করে, নানা অজুহাতে দেখিয়ে এড়িয়ে যাচ্ছে পরিষ্কার-পরিছন্নতার দায়িত্বে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অফিস। লোকবল নিয়োগে এস্টেট অফিসে সাবেক উপাচার্যের ও বর্তমান কলা অনুষদের ডিনের আবেদনেও নেই সমাধান।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সমস্যা কতটা তীব্র তা শিক্ষার্থীরা বুঝতে পারেন। বিভিন্ন অনুষদের শৌচাগারে দরজা আছে তো ছিটকিনি নেই। বদনা আছে তো ট্যাপে পানি নেই। কুৎসিত, দুর্গন্ধের কারণে ভেতরে প্রবেশ দায়। শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত অনুষদ ভবনসমূহের শৌচাগারগুলো যেন ব্যবহারের অনুপযোগী।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি অনুষদ ভবনের চারটি অনুষদেই এ সমস্যা তীব্র। এগুলো হচ্ছে ফলিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদ ভবন, মীর মোশাররফ হোসেন একাডেমিক ভবন ও ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ ভবন।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি ফ্লোরের বাথরুমগুলোর পলেস্তারা খসে পড়েছে, কমোড-পানি সরবারহে সমস্যা, দরজাগুলো ভাঙা-অর্ধভাঙা, কোথাও আবার আবর্জনার ভাগাড়। বেসিনে ট্যাপ আছে কিন্তু পানি আসে না। আবার কোনোটিতে ট্যাপই নেই। বেশিরভাগ বেসিনের উপরেই আয়না উধাও হয়ে গেছে, আবার পুরোটা থাকলেও তার উপর রঙ আর চুন পড়ে চেহারা দেখা যায় না। অনেকগুলো শৌচাগারে বদনা পাওয়া যায়নি, তাছাড়া বেশিরভাগ শৌচাগারের দরজায় কোনো ছিটকিনি নেই। শৌচাগার থেকে আসা দুর্গন্ধে শিক্ষার্থীদের ক্লাসরুমে বসে থাকতেই কষ্ট হয়।
এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর স্টাডিজ বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আসিফুর রহমান বলেন, ‘শৌচাগারের পাশেই আমাদের ক্লাসরুম, শৌচাগার থেকে আসা দুর্গন্ধে ক্লাসে টিকে থাকাই দায়, এতে আমাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। আমাদের পুরো ফ্লোরে একটি মাত্র শৌচাগার, তাও এটার যে দুরাবস্থা, তাতে এটা পুরোপুরি ব্যবহার অনুপযোগী। এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষকে কয়েকবার অবগত করেও কোনো সমাধান পাইনি।'
পরীক্ষার হলে ডিউটিরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, ‘ওয়াসরুমগুলোর সত্যি সত্যি বেহলা ও একদম ভয়ানক অবস্থা। যা আমরা শিক্ষক শিক্ষার্থীরা অনেক সময় অনুভব করি। পরীক্ষায় ডিউটিরত অবস্থায় শৌচাগার ব্যবহারের খুবই প্রয়োজন হয়। তখন চাইলেই বিভাগের অফিসরুমে যাওয়া যায় না। বাধ্য হয়ে এই বেহাল শৌচাগার ব্যবহার করতে হয়। অন্যদিকে দুর্গন্ধে অসুস্থ হয়ে যায় শিক্ষার্থীরা। বিষয়টা কর্তৃপক্ষের নজরে আনা প্রয়োজন।’
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন, উপাচার্যের বাসভবন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার সার্বিক দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অফিস শাখার। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী রেজিস্ট্রার (এস্টেট শাখা) গোলাম মাহফুজ মঞ্জু বলেন, 'প্রত্যেকটি অনুষদের ডিনের অধীনে পর্যাপ্ত পরিচ্ছন্নতাকর্মী দেওয়া আছে। বর্তমান আমরাও অনেক লোকবল সংকটে। এখন এর বাহিরে তাদের অতিরিক্ত পরিচ্ছন্নতাকর্মী প্রয়োজন হলে তারা এস্টেট অফিসে আবারও আবেদন করলে আমরা সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।'
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদ ভবনের কলা অনুষদের ডিন ও সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন-উর-আশকারী ফোনে বলেন, ‘আমাদের পুরো অনুষদ ভবনে মাত্র একজন সুইপার। লোকবল সংকটের কারণে একজন সুইপারের একার পক্ষে প্রতিদিন এতগুলো শৌচাগার পরিচ্ছন্ন করা সম্ভব হয়ে উঠে না। লোকবল নিয়োগের ব্যাপারে ইতোপূর্বে কয়েকবার এস্টেট অফিসে আবেদন করেও তেমন কোন কোনো সমাধান পায়নি। আমরা পুনরায় আবেদন জমা দেব, আশা করি তারা দ্রত ব্যবস্থা নেবেন।'