প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৫:৪৮ পিএম
আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৫:৪৮ পিএম
রাজধানীর সিটি কলেজ ও ধানমন্ডি আইডিয়াল কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। প্রবা ফটো
রাজধানীর সিটি কলেজ ও ধানমন্ডি আইডিয়াল কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় এক পথচারী শিক্ষার্থীসহ উভয় কলেজের কয়েকজন আহত হয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বেশ কয়েজন ছাত্রকে আটক করেছে বলে জানা গেছে। রবিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. শহিদুল্লাহ সংঘর্ষের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আহত দুইজনের নাম জানা গেছে। সবুজবাগ সরকারি কলেজের সামিউল আলম ও সিটি কলেজের স্বাধীন। সংঘর্ষের সময় ওই এলাকা দিয়ে যাওয়ার পথে মাশফি নামে নটরডেম কলেজের এক শিক্ষার্থীও আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে প্রায় আধাঘণ্টা পর সংঘর্ষ থামে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। এ সময় ওই এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
এ সংঘর্ষের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশনের সদস্য ও অনলাইন নিউজ পোর্টাল ঢাকা মেইলের সাংবাদিক খলিলুর রহমান পুলিশের হাতে লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
‘তোরা মুরগি, সাহস থাকলে বের’
পুলিশের রমনা বিভাগের উপ কমিশনার (ডিসি) মো. শহিদুল্লাহ বলেন, ‘প্রায়ই দুই কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে নানা ঘটনা নিয়ে দ্বন্দ্ব লেগে থাকে। সিটি কলেজের শিক্ষার্থীরা ধানমন্ডি আইডিয়াল কলেজের ফটকে গিয়ে ‘‘তোরা মুরগি, সাহস থাকলে বের হ’’ বলে চিৎকার করতে থাকেন। এরপরই দুই কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মারামারি বেঁধে যায়। পরবর্তীতে পুলিশ খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বেশ কয়েজন শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে।’

পুলিশ জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও দুই কলেজের শিক্ষকদের থানায় ডাকা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে যদি কোনো অভিযোগ থাকে, তবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগ না থাকলে তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে।
সাংবাদিক লাঞ্ছনা
সংঘর্ষের ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে পুলিশের হাতে লাঞ্ছনার শিকারের অভিযোগ করেছেন ঢাকা মেইলের প্রতিবেদক খলিলুর রহমান। তার ভাষ্য, ধানমন্ডিতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সামনে কিছু শিক্ষার্থীকে তিনি দৌড়াদৌড়ি করতে দেখে তাদের সঙ্গে কথা বলছিলেন। শিক্ষার্থীরা তাকে সংঘর্ষের কথা জানিয়ে বলেন, ‘পুলিশ তাদের ধাওয়া দিয়েছে।’ এ সময় ধানমন্ডি থানার পুলিশ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে আটক করে। এ আটকের ছবি তুলতে গেলে কর্তব্যরত পুলিশ তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে এবং মুঠোফোন, পরিচয়পত্র ছিনিয়ে নেয়। পরবর্তী সময়ে পিবিআইতে থাকা অন্য সাংবাদিকেরা তাকে উদ্ধার করেন।
এ বিষয়ে ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকরাম আলী মিয়া বলেন, ‘সাংবাদিকের ওপর হাততোলা দুঃখজনক। এ বিষয়ে দোষী পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ক্র্যাবের নিন্দা
সাংবাদিক খলিলুরের লাঞ্ছনার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) নেতারা। তারা বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে পুলিশের পক্ষ থেকে অসহযোগিতা ও অসৌজন্যমূলক আচরণ কোনোমতে কাম্য নয়। এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে পুলিশের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক দৃঢ় করার আহ্বান জানান তারা।