বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ২১:৪৮ পিএম
ঢাবি উপাচার্যের বাসভবনের সামনে মোনাজাত করছেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বাহলুল হক চৌধুরীসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। প্রবা ফটো
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দপ্তরে মৌখিক নিয়োগ, পছন্দের লোকের কাছে কম দামে কাগজ বিক্রি ও লেনদেনে অস্বচ্ছতাসহ বেশ কিছু অনিয়মের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর ‘ক্ষুব্ধ’ হয়ে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে মোনাজাত করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বাহলুল হক চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুর আড়াইটার দিকে সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ডেকে নিয়ে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক। পরে উপাচার্যের গেইটের সামনে দাঁড়িয়ে মোনাজাত ধরেন তিনি।
এসময় পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিসের প্রায় অর্ধশতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন।
মোনাজাতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আল্লাহর কাছে এই ঘটনার বিচার চান তিনি। হঠাৎ কী কারণে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে গিয়ে এমন করলেন সে বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেননি বাহলুল হক চৌধুরী। পরে তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও রিসিভ করেননি।
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে গিয়েও বাহলুল হক চৌধুরীকে পাওয়া যায়নি। সেখানে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘স্যার (বাহালুল) হঠাৎ আমাদের সবাইকে জরুরি ডেকে উপাচার্য স্যারের বাসভবনে নিয়ে যান। সেখানে আকাশের দিকে হাত তুলে মোনাজাত করেন। আমরা কিছুই বুঝে উঠতে পারিনি। মিডিয়ায় খবর প্রকাশ হওয়ার পর থেকে কন্ট্রোলার স্যার মানসিক অস্থিরতায় ভুগছেন। গত পরশু সাংবাদিকতা বিভাগে গিয়েও চিল্লাচিল্লি করেছেন। আজকে উপ-উপাচার্যের (শিক্ষা) অফিসে গিয়েও বেহুশ হয়ে পড়ে যান।’
এ বিষয়ে ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘উনি কী কারণে লোকজন নিয়ে এসেছিলেন, আমি বিষয়টা জানি না। শুনেছি, উনি এসে দোয়া করে গেছেন। তিনি (বাহালুল) মানসিকভাবে অস্থিরতায় ভুগছেন, কী করবে বুঝে উঠতে পারছেন না। আমি তার পরিবারের সঙ্গেও বিষয়টি নিয়ে আলাপ করেছি, তারাও বিষয়টি আমাকে জানিয়েছে। কী করা যায় সেটা নিয়ে ভাবছি।’
গত বছরের অক্টোবর মাসে বিজ্ঞপ্তি না দিয়ে মৌখিকভাবে ৫৩ জনকে নিয়োগ, বাজারদরের চেয়ে কম দামে পছন্দের ব্যক্তির কাছে পুরোনো কাগজ বিক্রি, অধিভুক্ত কলেজের প্রবেশপত্র ফি নগদে গ্রহণ ও লেনদেনে অস্বচ্ছতাসহ অনিয়মের অনেকগুলো অভিযোগ পাওয়া যায় পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. বাহালুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ গড়ায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পর্যন্ত। এর পরিপ্রেক্ষিতে দুদক বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে চিঠি দিয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের বিষয়ে তথ্য চেয়েছিল।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রবীর কুমার সরকার ও হিসাব পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. সাইফুল ইসলাম দুদকের চিঠির জবাবও দিয়েছিলেন।