প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৬ জানুয়ারি ২০২৩ ১৫:৫৮ পিএম
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকদের জাতীয়করণের দাবি জানিয়েছে এমপিওভুক্ত
শিক্ষক কর্মচারী জাতীয়করণ প্রত্যাশী মহাজোট।
বৃহস্পতিবার (২৫ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে বেতন ও
ভাতা বৈষম্য দূরীকরণের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে সংগঠনটি।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সদস্য সচিব জসীম উদ্দীন আহমদ লিখিত বক্তব্য
পাঠ করেন।
তিনি বলেন, দেশের অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষার উন্নয়ন করতে
হবে। শিক্ষার উন্নয়ন ব্যাহত হলে বাংলাদেশের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জিত হবে না। সেজন্য
শিক্ষা ব্যবস্থাকে জাতীয়করণের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীরা মাত্র ৫% বার্ষিক প্রবৃদ্ধি
ও ২০% বৈশাখী ভাতা পান। বাড়ি ভাড়া মাসিক এক হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা ৫০০ ও উৎসব ভাতা
২৫ শতাংশ। যা অমানবিক ও অযৌক্তিক। বর্তমান সরকার এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দ্বারা
অর্জিত আয় রাষ্ট্রীয় কোষাগারে নেয় না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আয় সরকারের কোষাগারে
জমা নিলে সরকার উদ্বৃত্ত থাকবে ১ হাজার কোটি টাকা।
‘এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের
কোনো প্রতিনিধি সরকারের কোনো দপ্তরে নেই। এমনকি ডেপুটেশনে যাওয়ারও কোনো সুযোগ নেই।
আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেতন বৈষম্য আজ দৃশ্যমান। যা শিক্ষকদের
জন্য সত্যিই অপমানজনক।’
জসীম উদ্দীন আহমদ বলেন, বর্তমানে এমপিওভুক্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয় ১৯
হাজার ৮৪৭টি, কলেজ ৪০০৭টি, মাদ্রাসা ৯৩৪১টি, কারিগরি ৫৮৯৭টি। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষক
কর্মচারীর সংখ্যা ৫০ হাজার ৬৬৩৭জন এবং শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৬ লাখ ২৬ হাজার ৩৭২৪ জন
। এই বিপুল শিক্ষার্থীর বর্তমান কাঠামো সময়োপযোগী নয়। প্রাথমিক স্তর থেকে কলেজে পর্যন্ত
বেতনের তারতম্য ৮ থেকে ৪০ টাকা। এখানে সামান্য কিছু (৫-১০) টাকা বৃদ্ধি করলেই জাতীয়করণের
যে ব্যয় তা সরকারের উপর চাপ প্রয়োগ করবে না। বরং সরকারের তহবিলে উদ্বৃত্ত থাকবে।
সংগঠনের সদস্য সচিব প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, আগামী ২২ ফেব্রুয়ারির
মধ্যে এ সকল দাবি মানতে হবে। না মানলে আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবে
অবস্থান কর্মসূচি পালন করবে সংগঠনটি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- সংগঠনটির সভাপতি অধ্যক্ষ মো. মাইন উদ্দীন, প্রধান উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ ইদ্রিস আলী, যুগ্ম-আহ্বায়ক অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজিজী, মতিউর রহমান দুলাল প্রমুখ।