চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ২১ জানুয়ারি ২০২৩ ২২:৫৭ পিএম
বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রীসহ অন্যরা। প্রবা ফটো
ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজি বিশ্ববিদ্যালয় দক্ষজনবলের সংকট দূর করতে ভূমিকা রাখবে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।
তিনি বলেছেন, ‘আমাদের দেশের শিল্প ক্ষেত্রে দক্ষ জনবল বিভিন্ন দেশ থেকে আসছে। আমরা এই সেক্টরে যোগ্য, দক্ষ জনশক্তি আমাদের দেশেই তৈরি করতে চাই। সেই জন্যই বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তৈরি হচ্ছে।’
শনিবার (২১ জানুয়ারি) বিকাল ৪টার দিকে নগরীর নেভি কনভেনশন সেন্টারে বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়টির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান নাছির উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। এতে চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম, দৈনিক আজাদী পত্রিকার সম্পাদক এম এ মালেক, এশিয়ান গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুস সালাম, ইন্ডিপেনডেন্ট অ্যাপারেল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম আবু তৈয়ব, হেলাল উদ্দিন চৌধুরী, এ এম চৌধুরী সেলিমসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
দীপু মনি বলেন, ‘আমাদের ঢাকায় একটি ফ্যাশন ডিজাইন অ্যান্ড টেকনোলজি বিশ্ববিদ্যালয় হয়েছে। মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়, ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয় হয়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয় চারটি বিভাগ নিয়ে শুরু হচ্ছে। সামনের দিনে আরও অনেক বড় হবে। অনেক শিক্ষার্থী ভর্তি হবে। তারা আমাদের এই সেক্টরে দক্ষ জনবলের সংকট দূর করবে।‘
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা শিক্ষা ব্যবস্থার একটা রূপান্তর ঘটাচ্ছি। প্রাথমিক থেকে উচ্চ শিক্ষা পর্যন্ত। আমরা চাই, আমাদের প্রত্যেক উচ্চ শিক্ষিত শিক্ষার্থী, যে যেই বিষয়ে পড়ুক। কেউ হিউম্যান ম্যানেজমেন্ট পড়বে, কেউ ফ্যাশন ডিজাইন নিয়ে পড়বে। যে যেই বিষয় নিয়ে পড়ুক, প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে অবশ্যই ল্যাংগুয়েজ, আইসিটি, এন্টারপ্রেনারশিপ, সফটস্কিল শেখাতেই হবে। এই জায়গায় অন্যদের সঙ্গে আমাদের পার্থক্য তৈরি হয়। এই জায়গাগুলো মনোনিবেশ করতেই হবে। এগুলোর চর্চা করবে তারা যখন শিক্ষার্থী থাকে তখনই। শিক্ষার্থীরা চাকরি জগতের প্রয়োজনীয়তাটা বোঝে। সেই অনুযায়ী প্রশিক্ষিত হয়ে দক্ষ জনবল হয়ে চাকরি বাজারে প্রবেশ করবে।’
নগরীর খুলশী থানার ঝাউতলা এলাকায় বিজিএমইএ ভবনের পঞ্চম, নবম এবং দশম তলায় বিশ্ববিদ্যালয়টির একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে। প্রথম দিকে ফ্যাকাল্টি অব ক্লথিং অ্যান্ড ফ্যাশন টেকনোলজি এবং ফ্যাকাল্টি অব ফ্যাশন অ্যান্ড অ্যাপারেল ডিজাইন অনুষদের অধীনে চারটি বিভাগে ৩৫ জন করে ১৫০ জনকে ভর্তি করা হবে। এর মধ্যে বিএসসি ইন টেক্সটাইল অ্যান্ড ক্লথিং টেকনোলজি বিভাগের অধীনে ৩৫ জন, বিএসসি ইন ফ্যাশন ডিজাইন অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগে ৩৫ জন, ব্যাচেলর অব অ্যাপারেল মার্চান্ডাইজিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগে ৩৫ জন এবং ব্যাচেলর অব ফ্যাশন ডিজাইন বিভাগে ৩৫ জনকে ভর্তি করা হবে।
এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান নাছির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘‘আধুনিক ফ্যাশন টেকনোলজিতে প্রশিক্ষিত করে দেশের অর্থনীতি ত্বরান্বিত করার প্রত্যয় নিয়ে বিজিএমইএ ডিপ্লোমা প্রতিষ্ঠান দেশের পোশাক শিল্পকারখানাগুলোতে দক্ষ জনবল সরবরাহ করে আসছে। ওই ধারাবাহিকতায় ২০২১ সালে ‘চট্টগ্রাম বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজি নামে বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের অনুমতির জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করি। পরবর্তীতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ইউজিসির মাধ্যমে ২০২২ সালের ২৪ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়টি স্থাপন ও পরিচালনার অনুমতি পাওয়া যায়।
‘‘এরপর আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম শুরুর উদ্যোগ নেই। ইউজিসি ২০২৩ সাল থেকে দুইটি অনুষদের অধীনে চারটি বিভাগে শিক্ষার্থী ভর্তি করানোর অনুমতি দিয়েছে। সেই আলোকে প্রথম বর্ষে চারটি বিভাগে ১৫০জন শিক্ষার্থী নিয়ে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে।’’