সেলিম আহমেদ
প্রকাশ : ১৫ জানুয়ারি ২০২৩ ১৯:৫৬ পিএম
দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইচ্ছামতো নির্ধারণ করে নানারকম ফি। এতে দরিদ্র ও অসচ্ছল পরিবারের অনেক শিক্ষার্থী পড়ালেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। এই বাণিজ্য বন্ধে সরকার নানা সময় কড়া হুঁশিয়ারি দিলেও সমাধান হয়নি। শেষমেশ টিউশন ফি নীতিমালা করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যেই নীতিমালার খসড়া হয়েছে।এতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাসিক বেতন, ভর্তি, সেশন, বোর্ড পরীক্ষার ফরম পূরণসহ মোট ২৬ ধরনের ফি নির্ধারণ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
এর বাইরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অর্থ আদায় করতে পারবে না। আদায়কৃত অর্থও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাধারণ তহবিলে জমা রাখতে হবে। খরচ করতে হবে নির্দেশনা মোতাবেক। সরকারের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন শিক্ষাবিদরা।
তারা বলছেন, এই নীতিমালা পুরোপুরি কার্যকর হলে শিক্ষায় বাণিজ্য বন্ধ হয়ে আসবে।
সাধারণ পরিবারের শিক্ষার্থীরাও অর্থের অভাবে ঝরে পড়বে না।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের যুগ্ম সচিব (বেসরকারি মাধ্যমিক অধিশাখা) সোনা মনি চাকমা প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘আশা করছি খুব শিগগিরই নীতিমালাটি চূড়ান্ত হবে।’
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে অসংখ্য বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠান প্রতিবছর যেভাবে ভর্তি বাণিজ্য শুরু করে তাতে বেশির ভাগ পরিবার বিপাকে পড়ে। বছর বছর বাড়ছে এসব ফি। আবার প্রাইভেট না পড়লে নির্বাচনী পরীক্ষায় অকৃতকার্য করাসহ নানাভাবে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এসব বন্ধ করতে উদ্যোগ নিলেও তা খুব একটা কার্যকর হয় না। তাই এবার টিউশন নীতিমালা করতে যাচ্ছে সরকার।
শিক্ষানীতি প্রণয়ন কমিটির কো-চেয়ারম্যান কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘যুগ যুগ ধরে চলছে শিক্ষা বাণিজ্য। টিউশন নীতিমালা করলে এটা বন্ধ হবে বলে আমরা শিক্ষানীতির কথা বলেছি। এখন যদি তা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হয় তাহলে শিক্ষা বাণিজ্য বন্ধ হতে পারে।’
খসড়া নীতিমালায় দেখা যাচ্ছে, মহানগর ও মফস্বলের স্কুল-কলেজের জন্য আলাদা টিউশন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। এর দুটি ভাগ রয়েছে। একটি এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের জন্য অন্যটি নন- এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের জন্য। এমপিওভুক্ত মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণিতে মাসিক বেতন সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা করার প্রস্তাব এসেছে, নবম-দশম শ্রেণিতে সর্বোচ্চ ৪০০ টাকা।
আর নন-এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণিতে মাসিক বেতন সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা, নবম-দশম শ্রেণিতে সর্বোচ্চ ৬০০ টাকা। কলেজ পর্যায়ে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উচ্চমাধ্যমিকে মাসিক বেতন সর্বোচ্চ ৪৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, স্নাতক-পর্যায়ে এটা হবে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা। আর নন-এমপিওভুক্ত হলে উচ্চমাধ্যমিকে সর্বোচ্চ ৬০০ টাকা, স্নাতক পর্যায়ে এটা হবে সর্বোচ্চ ৭০০ টাকা।
এ ছাড়া নীতিমালায় অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা, টিফিন, ম্যাগাজিন, ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক উৎসব, ধর্মীয় অনুষ্ঠান, লাইব্রেরি, পরিচয়পত্র, নবীনবরণ, শিক্ষাসফর, উন্নয়ন ফি ইত্যাদি খাতে কত টাকা নেওয়া যাবে সে বিষয়টিও নির্দিষ্ট করা হয়েছে। এ ফি সর্বনিম্ন ৫ টাকা, সর্বোচ্চ ২০০ টাকা। নীতিমালায় রসিদ ছাড়া শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় করা যাবে না বলে উল্লেখ করা হয়েছে।