প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ জানুয়ারি ২০২৩ ২৩:৩৪ পিএম
আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০২৩ ১২:৫২ পিএম
ফাইল ছবি
স্থায়ী ক্যাম্পাস ইস্যুতে আল্টিমেটাম দেওয়া ১৮ বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রগতি মনিটরিংয়ের জন্য ১৮টি কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। তিন সদস্য বিশিষ্ট এসব কমিটিতে আহ্বায়ক, সদস্যসচিবের পাশাপাশি একজনকে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে। তাদের সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় নিয়মিত মনিটরিং করে ইউজিসিতে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইউজিসির চিঠিতে স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য ভবন নির্মাণ ও শিক্ষক কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে স্থানান্তর সংক্রান্ত বিষয়টি সরেজমিনে পরিদর্শনপূর্বক মতামত দেওয়ার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে ইউজিসির পরিচালক (পাবলিকেশ) ড. এ কে এম শামসুর আরেফিন বলেন, অনুমোদনের ১২ বছর পূর্ণ হয়েছে অথচ এখনও স্থায়ী ক্যাম্পাসে স্থানান্তর হয়নি তাদের নতুন করে তিন থেকে ছয় মাস সময় দেওয়া হয়েছে। সেসব বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য ভবন ও প্রস্তুতি পরিদর্শন করতে বেশ কয়েকটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এসব কমিটির সদস্যরা স্থায়ী ক্যাম্পাস সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রতিবেদন জমা দিচ্ছেন।
এর আগে গত ১ জানুয়ারি স্থায়ী ক্যাম্পাসে না যাওয়ায় দেশের ওই ১৮ বিশ্ববিদ্যালয়কে কড়া হুঁশিয়ারি দেয় ইউজিসি। এর মধ্যে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত চার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। বাকি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো মধ্যে ২টিতে স্থায়ী ক্যাম্পাস ব্যতীত শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ এবং ১২টি বিশ্ববিদ্যালয়কে স্থায়ী ক্যাম্পাসে যাওয়ার জন্য সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে।
ভর্তি বন্ধের হুমকি পাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো, স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, আশা ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, প্রাইম এশিয়া ইউনিভার্সিটি, ও ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ। এছাড়াও স্থায়ী ক্যাম্পাস ছাড়া শিক্ষার্থী ভর্তি করতে পারবে না মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ। তিনমাস সময় বাড়ানো হয়েছে এমন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, রয়্যাল ইউনিভার্সিটি অব ঢাকা, সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটি, সিটি ইউনিভার্সিটি, দ্য মিলেনিয়াম ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস। আরও ৬ মাস সময় পেয়েছে এমন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো- ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভ (ইউডা), গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, উত্তরা ইউনিভার্সিটি, প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি, দ্য পিপলস ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ।
ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ চন্দ বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদনের ১২ বছরের মধ্যে স্থায়ী ক্যাম্পাসে স্থানান্তর হতে হবে। আইন অমান্য করা এমন ১৮টি বিশ্ববিদ্যালয়কে ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। এ সময়ের মধ্যে তাদের স্থায়ী ক্যাম্পাস স্থাপন করে সব কার্যক্রম সেখানে স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়। স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে যাদের বিদ্যুৎ সংযোগসহ ইউটিলিটি সমস্যা রয়েছে তাদের তিন মাসের সময় দেওয়া হয়েছে। স্থায়ী ক্যাম্পাসের ভবন নির্মাণাধীন থাকা বিশ্ববিদ্যালয়, যেগুলো দ্রুত যাওয়ার জন্য পদক্ষেপ নিয়েছে তাদের ছয় মাস পর্যন্ত সময় দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, আমরা শুধু সময় দিয়ে বসে থাকব না, তাদের কাজের অগ্রগতি কী পর্যায়ে তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে। সে কারণে বেশ কয়েকটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যারা স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে ব্যর্থ হবে তাদের বিষয়ে নতুন করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।