প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২২ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ২১ ঘণ্টা আগে
আবাহাওয়া ভবন। ফাইল ছবি
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সঙ্গে কথা বলেই সোমবার এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে বলে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন যে বক্তব্য দিয়েছেন, তার পরিপ্রেক্ষিতে নিজেদের অবস্থান জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় সংস্থাটি।
অধিদপ্তরের পরিচালক মমিনুল ইসলাম মঙ্গলবার প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানান, সোমবার বৃষ্টি হবে না, এমন কোনো পূর্বাভাস দেওয়া হয়নি।
শিক্ষার্থীদের দাবি উপেক্ষা করে সোমবার ভারি বৃষ্টির মধ্যে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে নেওয়া হয় এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, ময়মনসিংহসহ অন্তত ১১ জেলায় সড়ক অবরোধ, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করে শিক্ষার্থীরা।
বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, বৈরী আবহাওয়ায় এইচএসসি পরীক্ষা হওয়ায় অনেকে কেন্দ্রে যেতে পারেনি।
তাদের দাবি, দুর্যোগের প্রভাব থাকা পর্যন্ত পরীক্ষা স্থগিতের পাশাপাশি সোমবারের পরীক্ষায় যারা অংশ নিতে পারেনি, তাদের ফের পরীক্ষায় বসার সুযোগ দিতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের নিয়ে ‘অযাচিত’ মন্তব্য করায় ক্ষমা না চাইলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগ করতে হবে শিক্ষামন্ত্রীকে।
এমন বাস্তবতায় মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে দুটি সম্পূরক প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে শিক্ষামন্ত্রী জানান, তারা আবহাওয়া অধিদপ্তরের সঙ্গে কথা বলেছেন। অধিদপ্তর জানিয়েছে সোমবার বৃষ্টি হবে না। তাই পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, আবহাওয়া পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছিল। ৬৪ জেলার এসপি, আট বিভাগের কমিশনার ও প্রতিটি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের সঙ্গে তারা কথা বলেছেন। পাশাপাশি আবহাওয়া অধিদপ্তরের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছেন। তারা জানিয়েছিল,আর বৃষ্টি হবে না।
মন্ত্রী আরও জানান, বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সবাই বলেছেন, আবহাওয়া ভালো থাকবে। সে কারণেই পরীক্ষা বহাল রেখেছেন, কিন্তু সকালে বৃষ্টি দেখে নিজেই তৎপর হয়েছেন।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভাষ্য
সংসদে শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মমিনুল ইসলাম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, “বৃষ্টি হবে না ধরনের কোনো পূর্বাভাস আমরা দিইনি; বরং রবিবার দুপুর ১২টায় পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় খুলনা ও বরিশাল বাদে বাকি ৬ বিভাগে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টির সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল।
“আর তার আগের দিন রাতেও ৫ দিনের পূর্বাভাসে ভারি, অতি ভারি বৃষ্টিপাতের কথা বলা হয়েছিল, তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আমার কথা হয়নি। প্রতিরক্ষা সচিবের সঙ্গে মিটিংয়ে ছিলাম। অধিদপ্তরের ডেপুটি উপপরিচালক নুরুল করিম ও ড. মো. বজলুর রশিদকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ফোন দিয়েছিল। তাদের সঙ্গে কথা বলুন”।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কার সঙ্গে কী কথা হয়েছিল জিজ্ঞাসা করা হলে নুরুল করিম বলেন, “শিক্ষা সচিব (মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা সচিব আবদুল খালেক) ফোনে জানতে চেয়েছিল সোমবার বৃষ্টি হবে কি না। আমরা বলেছি রবিবারের চেয়ে কম হবে, তবে বৃষ্টি হবে না এমন কথা বলা হয়নি। আমার পরে আবহাওয়াবিদ ড. মো. বজলুর রশিদের সঙ্গে সচিবের কথা হয়েছে”।
ড. মো. বজলুর রশিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “রবিবার দুপুর ২টার দিকে শিক্ষা সচিব আবহাওয়া কেমন থাকবে, তা জানতে চেয়েছিল। আমরা বলেছি, ‘আজকের (রবিবার) চেয়ে কম বৃষ্টি থাকবে। বৃষ্টি হবে না এমন কোনো কথা বলা হয়নি। আপনারা জানেন সোমবার ৪১ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছিল। আরও বলেছিলাম, এখন পুরোপুরি সোমবারের পরিস্থিতি বলা যাবে না। কেননা বর্ষাকাল কখন, কোথায় হয়, সেটিও নির্দিষ্ট থাকে না। সবচেয়ে ভালো হয় আপনারা রাতে আমাদের সঙ্গে কথা বললে। কেননা সন্ধ্যায় আমরা মডেল রান দিয়ে থাকি। পরের দিনের পরিস্থিতি এতে জানা যায়’”।
ড. মো. বজলুর রশিদ আরও বলেন, “পরবর্তীতে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়নি”।