ব্রেইন স্ট্রোক পরবর্তী শারীরিক পরিস্থিতি, এবং স্ত্রীর একটি বড়ো অপারেশনের কারণে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে না পারলেও শিগগিরই সেটি করার চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চাইলে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে বিষয়টি তদন্ত করতে পারে বলেও মত দেন এই শিক্ষক।
সেলিম রেজা নিউটন বিশ্ববিদ্যালয়টির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে শিক্ষকতা ও লেখালেখির পাশাপাশি তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও নাগরিক অধিকারভিত্তিক ইস্যুতে সক্রিয়।
অন্যায়, বৈষম্য ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে বরাবরই প্রকাশ্যে সোচ্চার থেকেছেন তিনি।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের উত্তাল সময়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্রিয় ভূমিকা রাখা শিক্ষকদের অন্যতম ছিলেন সেলিম রেজা নিউটন।
তার দাবি, ওই সময়কার ভূমিকার কারণেই পরবর্তী সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা, অপপ্রচার এবং ব্যক্তিগত আক্রমণের পাশাপাশি হত্যার হুমকিরও মুখে পড়তে হয়েছে তাকে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিদিনের বাংলাদেশকে তিনি বলেন, “কেন দিচ্ছে সেটা তো ওরা আমাকে বলেনি যে এইজন্য দিচ্ছে। জুলাইয়ে আমার ভূমিকার জন্য, জুলাইয়ের পর থেকে থেকে শুরু হয়েছে, একদম জুলাই মাস থেকেই এটা শুরু হয়েছে। পাঁচই আগস্টের পর থেকে এটা বেড়েছে, এখন আরও চলছে এটা।”
তিনি অভিযোগ করেন এ থেকে তার পরিবারের সদস্যরাও রেহাই পাননি।
তিনি অভিযোগ করেন, অনলাইনে “আমার পরিবারের সদস্যদের বিকৃত ছবি আমার ছবির সাথে বিকৃতভাবে মিলিয়ে প্রচার করা হচ্ছে। প্রকারান্তরে তাদেরকে ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। কদর্য ইমেজ এবং টেক্সট ব্যবহার করে গালিগালাজ করা হচ্ছে।”
নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে রবিবার দেওয়া ‘জিডি প্রসঙ্গে, মিডিয়া প্রসঙ্গে’ শিরোনামে দেওয়া এক পোস্টে নিউটন লিখেছেন, “যদি পেরে উঠি, জিডি করব আশা করি। সময় পাচ্ছি না। … আমার স্ত্রী নিমা ম্যাডামের বড়ো অপারেশন গেল। … রাজশাহীতে ফিরি আগে।”
ওই পোস্টের প্রসঙ্গ তুলে মামলা বা জিডি করবেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ওটা করার অনেকগুলো ঝামেলা আছে, আমার শরীররটা অতো ভালো না। এই সবকিছু মিলে পেরে উঠব কি না জানি না। কাজটা আনন্দদায়ক না, সেটা বলেছি, মল-মূত্র ঘাঁটা সেটা বলেছি।”
জিডি করতে দেরি হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি আরও বলেন, “তার জন্যই বলেছি আমি শক্তি সঞ্চয় করছি। মানসিকভাবে ওটা, গু ঘাঁটার মতো শক্তি লাগে। আর এগুলো কোথায় কোথায় কী বলেছে, আমি তো সব টুকে রাখি নাই।”
সেলিম রেজা নিউটনের ভাষ্য, “সরকার তো চাইলে বা পুলিশের সংস্থাগুলো চাইলে নিজেরাই উদ্যোগ নিয়ে তদন্ত করতে পারে। … ইনবক্সটুকু বাদ দিলে বাকিটা সব ফেসবুকেই আছে।”
তিনি আরও বলেন, কোনো সংস্থা যদি বিষয়টিকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে, তাহলে তারা নিজ উদ্যোগে তদন্ত করতে পারে।
একই পোস্টে নিউটন দাবি করেন, “জুলাইয়ের অল্পবিস্তর চেনা-অচেনা মুখগুলোকে ক্রমাগতভাবে হত্যাযোগ্য করে তোলা হচ্ছে। ‘আমার দেশ’ পত্রিকার সুপরিচিত সাংবাদিক আবু সুফিয়ান এবং অন্য আরও অনেককে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।”
এ ছাড়া তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ তাদের লোকজনকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের হত্যায় উৎসাহ দিচ্ছে।
এসব বিষয়ে গণমাধ্যমের ভূমিকা যথেষ্ট নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।