দিনভর টানা বৃষ্টিতে বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল, প্রশাসনিক ভবন, ঢাকা ইউনিভার্সিটি ক্লাব, কার্জন হল এলাকা, তোরণ গেট থেকে ভিসি চত্বর, এএফ মুজিবুর রহমান গণিত ভবন ও পলাশী এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
টানা ভারি বর্ষণ, ক্যাম্পাসজুড়ে জলাবদ্ধতা ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে সোমবার অনুষ্ঠিতব্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সব অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা স্থগিত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে রবিবার এই তথ্য জানোনো হয়।
এতে বলা হয়, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট সবার নিরাপত্তা এবং দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ১৩ জুলাইয়ের পূর্বনির্ধারিত সব অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। স্থগিত হওয়া পরীক্ষার নতুন সময়সূচি সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের প্রস্তাব অনুযায়ী পরে জানানো হবে। তবে অধিভুক্ত ও উপাদানকল্প কলেজ/ইনস্টিটিউটের পরীক্ষাগুলো পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. রোকনুজ্জামান বলেন, “প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে আগামীকালের সব পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে”।
এদিকে দিনভর টানা বৃষ্টিতে বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল, প্রশাসনিক ভবন, ঢাকা ইউনিভার্সিটি ক্লাব, কার্জন হল এলাকা, তোরণ গেট থেকে ভিসি চত্বর, এএফ মুজিবুর রহমান গণিত ভবন ও পলাশী এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
জলাবদ্ধতার কারণে বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এতে কয়েক হাজার আবাসিক শিক্ষার্থী দুর্ভোগে পড়েন।
বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল সংসদের সহসভাপতি (ভিপি) তাসনিম আক্তার আলিফ নাবিলা বলেন, “সকাল ১১টা থেকে হলে বিদ্যুৎ নেই। মোবাইল ফোনের চার্জও শেষ হয়ে আসছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে শিক্ষার্থীদের অন্ধকারেই থাকতে হবে”।
ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা যায়, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল, শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল ও সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের মাঠ এবং অভ্যন্তরীণ সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। শহীদুল্লাহ হলের নিচতলার কয়েকটি কক্ষের বারান্দা পর্যন্ত পানি উঠে গেছে।
বিরূপ আবহাওয়ার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকটি বিভাগ ও ইনস্টিটিউট নির্ধারিত মধ্যবর্তী ও চূড়ান্ত পরীক্ষা স্থগিত করেছে। অধিকাংশ বিভাগ সশরীরে ক্লাস বাতিল করেছে। কিছু বিভাগ অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এদিকে সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের মল চত্বরে ভেঙে পড়েছে শতবর্ষী একটি কৃষ্ণচূড়া গাছ। যদিও এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি, তবে আশপাশের কয়েকটি কনকচূড়া ও শিমুল গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্বোরিকালচার সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক জসীম উদ্দিন বলেন, “মল চত্বরের চারপাশে কংক্রিটের স্থাপনা নির্মাণের কারণে গাছটির শিকড় স্বাভাবিকভাবে বিস্তার লাভ করতে পারেনি। এতে ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ায় প্রবল ঝড় ছাড়াই বৃষ্টির মধ্যে গাছটি উপড়ে গেছে”।
তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালিত সাম্প্রতিক বৃক্ষ শুমারিতে প্রায় দুই হাজার গাছকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে গাছের শিকড় কেটে ফেলা, গোড়ায় কংক্রিটের স্থাপনা নির্মাণ এবং পর্যাপ্ত অক্সিজেন ও পুষ্টির অভাবে এসব গাছের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।