বান্দরবান প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৬ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ২ ঘণ্টা আগে
শিক্ষকদের বেতন জোগাতে তিন্দু নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বামং খিয়াং মিংলেন ছুটির দিনে ইঞ্জিনচালিত নৌকা চালান। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তিন্দু নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের কাজ শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির সম্পদ হস্তান্তর না করতে নির্দেশনাপত্র জারি করেছে জেলা মধ্যমিক শিক্ষা অফিস।
বান্দরবান জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. জসীম উদ্দীন মঙ্গলবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর বান্দরবানের অতি দুর্গম থানচির তিন্দু নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের কাজ শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে স্কুলটির সম্পদ হস্তান্তর না করতে নির্দেশ দিয়ে একটি চিঠি ইস্যু করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, তিনি এবং আঞ্চলিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ডিডি) মুহাম্মদ ফরিদুল আলন হোসাইনিকে নিয়ে দুই সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে।
যত দ্রুত সম্ভব স্কুলটি জাতীয়করণ ও কর্মরত সকল শিক্ষককে অন্তর্ভুক্ত করতে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম সম্পন্ন করার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
বান্দরবানের অতি দুর্গম পাহাড়ঘেরা থানচির তিন্দু এলাকা। যেখানে অধিকাংশই নিম্নআয়ের প্রান্তিক মানুষ। প্রতিকূল পরিবেশেও এই এলাকায় শিক্ষার আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার এবং জেলা সদর থেকে ৮৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত তিন্দু নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়টি।
স্কুলটির পরিচালনা ও অন্য সহকর্মীদের বেতন জোগাতে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক বামং খিয়াং মিংলেন নিজেই ছুটির দিনে ইঞ্জিনচালিত নৌকা চালিয়ে পর্যটক পরিবহন করে যা আয় করতেন তা তিনি সহকর্মী শিক্ষকদেরকে বেতন হিসেবে যোগান দিতেন।
গত ১৩ মে দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশ পত্রিকায় ‘শিক্ষকদের বেতন জোগাতে নৌকার মাঝি প্রধান শিক্ষক’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত সংবাদটি ভাইরাল হলে সারাদেশে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। পরে প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে বিষয়টি।
২৮ জুন জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে স্কুলটি জাতীয়করণের ঘোষণা দেন শিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।