মোহাম্মদ আলম
প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে
মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ। ছবি: সংগৃহীত
সরকারিভাবে সব ধরনের গাইড ও নোট বই নিষিদ্ধ থাকলেও ঢাকার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে ক্যাম্পাসে নিজের লেখা বই বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।
ইংরেজি বিষয়ের ওই শিক্ষক ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে শিক্ষার্থীদের এসব বই কিনতে বাধ্য করছেন বলে অভিযোগ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলেও রহস্যজনক নীরবতা পালন করছে কর্তৃপক্ষ।
উত্তরার দিয়াবাড়ি মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে সোমবার সরেজমিনে গিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে এই অনিয়মের চিত্র পাওয়া যায়। অভিযোগ রয়েছে, ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক রাসেল তালুকদার তার লেখা ‘ইংলিশ ফর হাই অ্যাচিভারস’ (English for High Achievers) নামের বইটি ক্যাম্পাসে নিজের কক্ষে বসেই শিক্ষার্থীদের কাছে বিক্রি করছেন।
ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে এই প্রতিবেদক সাধারণ ক্রেতা সেজে শিক্ষক রাসেল তালুকদারের মুঠোফোনে যোগাযোগ করেন। তিনি তৎক্ষণাৎ তাকে ক্যাম্পাসের নিজ কক্ষে আসার পরামর্শ দেন। সেখানে গিয়ে ৫শ টাকা পরিশোধ করে তার কাছ থেকেই একটি বই সংগ্রহ করা হয়। বিষয়টি আরও নিশ্চিত করতে বইটিতে ওই শিক্ষকের অটোগ্রাফও নেওয়া হয়। এ সময় তার কক্ষে কয়েকশ বই বিক্রির জন্য সাজানো অবস্থায় দেখা যায়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানের উপাধ্যক্ষ মো. মাসুদ আলম জানান, বেশ কয়েকজন অভিভাবক রাসেল তালুকদারের বই বিক্রির বিষয়ে অভিযোগ করেছেন। তিনি বিষয়টি অধ্যক্ষকে জানানোর পরামর্শ দেন।
এর আগে বেলা ১১টায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের দিয়াবাড়ি ক্যাম্পাসের একাধিক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের সঙ্গে কথা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিভাবক অভিযোগ করেন, প্রয়োজন না থাকলেও শিক্ষার্থীদের ওই বই কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে। এমনকি বইয়ের প্রকৃত মূল্যের চেয়ে বেশি দাম রাখা হচ্ছে বলেও তারা দাবি করেন।
দশম শ্রেণির একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, রাসেল স্যারের লেখা বই না কিনলে ক্লাসে তাদের সঙ্গে বিরূপ আচরণ করা হয়। তাদের দাবি, কলেজের প্রভাবশালী কয়েকজন শিক্ষকের একটি সিন্ডিকেট এই অবৈধ বই বিক্রির বাণিজ্যের সঙ্গে সরাসরি জড়িত।
এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে শিক্ষক রাসেল তালুকদার বই বিক্রির বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, তিনি সম্পূর্ণ বিনা পয়সায় শিক্ষার্থীদের বই দিয়েছেন।
মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জিয়াউল আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে নিয়মবহির্ভূতভাবে গাইড বই বিক্রির বিষয়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আমরা খোঁজ নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”