ফাইল ছবি
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) গবেষণা খাতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) পক্ষ থেকে কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
তিনি বলেন, “গবেষণা খাতে এই বরাদ্দ না থাকা দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক”।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে সোমবার বিকালে অনুষ্ঠিত বার্ষিক সিনেট অধিবেশনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনকালে তিনি এ তথ্য জানান।
অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির যুগে দেশকে নেতৃত্ব দিতে হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি পূর্ণাঙ্গ গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত করার বিকল্প নেই। অথচ ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে গবেষণা খাতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) পক্ষ থেকে কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি”।
বাজেট বক্তব্যে কোষাধ্যক্ষ বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসর দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। যুগের চাহিদা অনুযায়ী নতুন বিভাগ, ইনস্টিটিউট, ব্যুরো ও গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। শিক্ষার্থী ও শিক্ষক সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। শতবর্ষেরও বেশি সময় ধরে বিশ্ববিদ্যালয়টি নিরলস জ্ঞানচর্চা ও গবেষণার মাধ্যমে নতুন জ্ঞান সৃষ্টি এবং আলোকিত সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তবে এই দায়িত্ব সফলভাবে পালন করতে প্রকৃত অ্যাকাডেমিক স্বায়ত্তশাসনের পাশাপাশি পর্যাপ্ত আর্থিক সক্ষমতা নিশ্চিত করা জরুরি”।
তিনি বলেন, “একটি গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ হলো স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি পর্যায়ের গবেষণা। উন্নত বিশ্বের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গবেষকদের জন্য আকর্ষণীয় ফেলোশিপ, বৃত্তি ও গবেষণা-সহায়তা প্রদান করে, যা মেধাবী শিক্ষার্থীদের গবেষণায় আগ্রহী করে তোলে। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা-সহায়ক বৃত্তি ও ফেলোশিপের সংখ্যা এবং পরিমাণ-উভয়ই বৃদ্ধি করা প্রয়োজন, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা দেশে থেকেই উচ্চতর গবেষণায় আত্মনিয়োগ করতে পারেন”।
তুলনামূলক তথ্য তুলে তিনি বলেন, “বর্তমানে গবেষণা ও উন্নয়ন খাতে বাংলাদেশের ব্যয় জিডিপির প্রায় ০.৩ শতাংশ। অথচ ভারতে এ হার প্রায় ০.৬৪ শতাংশ, ভিয়েতনামে ০.৪ শতাংশের বেশি, চীনে প্রায় ২.৬ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ায় ৪ শতাংশেরও বেশি”।
শিক্ষকদের বেতন-কাঠামো, গবেষণা ভাতা, আধুনিক গবেষণাগার সুবিধা এবং আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণের সুযোগের ঘাটতির কারণে মেধাবী শিক্ষক-গবেষকদের একটি অংশ বিদেশমুখী হচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।