দিনাজপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ১৭ মিনিট আগে
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। ছবি: মন্ত্রীর ফেসবুক থেকে নেওয়া
এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে গুজব ছড়ালে এবং তা নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করলেই তাকে পুলিশ আটক করবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
তিনি বলেন, “মনে রাখবেন, আমরা কিন্তু টু-থার্ড মেজোরিটি নিয়ে সরকার গঠন করেছি। আমাদের ধমক-টমক দিয়ে কোনো লাভ হবে না। কাজ করবেন, দায়িত্ব পালন করবেন। তাহলে ঠিকঠাক মতো প্রমোশনসহ সব প্রাপ্য পাবেন”।
দিনাজপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা নিয়ে কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময়সভায় শুক্রবার বিকালে এ সব কথা বলেন তিনি।
এহছানুল হক মিলন বলেন, “এর আগে আমরা ছাড় দিয়েছি। এবার কিন্তু ছাড় দেব না। যে বা যারাই প্রশ্নফাঁস নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করবেন, তাকেই পুলিশ আটকাবে। কারণ তাকে তো আগে পুলিশ কাস্টডিতে নিতে হবে, জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে। তার কাছ থেকে তথ্য নেওয়া হবে, তাকে তথ্য দিতেই হবে”।
তিনি বলেন, “এবার ৯টা সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে আমরা পরীক্ষা নিচ্ছি। আগামী দিনে কমন সাবজেক্টে (একই বিষয়) মাদরাসা ও কারিগরিতেও অভিন্ন প্রশ্নপত্র করা হবে।এটাকে আমরা একই ধারায় আনতে চাই। সবার যোগ্যতা একই করে গওড়ে তুলতে হবে”।
মন্ত্রী বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন একজন শিক্ষার্থী যাবেন, তখন তাকে ওখানে সবার সঙ্গে একই ধারায় যেতে হবে। সেজন্য বাংলা ও ইংরেজিতে ২০০ নম্বরের করার দরকার আছে। এটা থাকবে”।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, “শিক্ষা বোর্ড কী করে, তারা মনে করে পরীক্ষা নেবো, খাতা দেখবে, রেজাল্ট দেবে আর ৫টা করে বোনাস নেবে। আবার প্রমোশনের জন্য কাজ বন্ধ করে আন্দোলনও করবে। বোর্ড ভাবে না যে, তাদের একাডেমিক জায়গা থেকে ইমপ্রুভ করার দায়িত্বও আছে। তাদের মাসিক, ত্রৈমাসিক, ষাণ্মাসিক এবং বাৎসরিক পরিকল্পনা থাকা উচিত। কিন্তু তারা তা করে না”।
তিনি বলেন, “বিগত সময়ে আওয়ামী লীগ করতো, এখন সব বিএনপি হয়ে গেছে। সেই কর্মকর্তারাই আবার চেয়ারম্যানকে জিম্মি করে দাবি-দাওয়া আদায় করতে চান। হুমকি-ধামকি দেন। এগুলো আর চলবে না”।
তিনি আরও বলেন, “শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। বর্তমান সরকারও শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে। আগামীর বাংলাদেশ গড়তে একটি সুন্দর ও আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলাই লক্ষ্য”।
এহছানুল হক বলেন, “প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য জুতা, মোজা, পোশাক ও স্কুল ব্যাগসহ বিভিন্ন সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের ক্লাস ফোর থেকে সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা এবং ক্লাস সিক্স থেকে আনন্দময় শিক্ষা কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে”।
মতবিনিময় সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন দিনাজপুর বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইলিয়াস আহমেদ। সভায় শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও পরীক্ষা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।