বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩ ঘণ্টা আগে
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
সঙ্গীত, চারুকলা ও নাট্যকলাসহ বিভিন্ন সৃজনশীল বিষয়ে গ্র্যাজুয়েটদের জন্য দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকতায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ সম্প্রসারণে কাজ করছে সরকার।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগ আয়োজিত ‘রবীন্দ্র-নজরুল উৎসব’-এ বৃহস্পতিবার প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা জানান প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক শিক্ষায় শিল্প-সংস্কৃতির চর্চা বাড়াতে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত মানবসম্পদ প্রয়োজন। এ লক্ষ্যেই সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের নিয়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে মন্ত্রণালয়।
প্রাথমিক শিক্ষায় সাংস্কৃতিক শিক্ষা অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগ নিয়ে সৃষ্ট আলোচনার প্রসঙ্গে ববি হাজ্জাজ বলেন, এটি কোনো বিতর্কের বিষয় নয়; বরং শিশুদের সৃজনশীলতা, নৈতিকতা, আত্মপ্রকাশ ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
তিনি বলেন, সঙ্গীত, সাহিত্য, আবৃত্তি, নাটক, চিত্রকলা কিংবা কেরাত সবই শিশুদের আত্মপ্রকাশের সমান সুযোগ তৈরি করে। কোনো শিক্ষার্থী কোন মাধ্যমে নিজেকে বিকশিত করবে, সেটি সম্পূর্ণ তার ও তার পরিবারের পছন্দের বিষয়।
প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রাথমিক শিক্ষার নতুন কারিকুলামে সাংস্কৃতিক শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় শিক্ষার্থীরা আবৃত্তি, কেরাত, বক্তৃতা, সঙ্গীত, নৃত্য, নাটক এবং অন্যান্য সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে।
তিনি বলেন, আমরা চাই সঙ্গীত, নাটক ও চারুকলার শিক্ষার্থীরাও ভবিষ্যতে শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হয়ে শিশুদের মানসিক ও সৃজনশীল বিকাশে অগ্রণী ভূমিকা রাখুক।
এ বিষয়ে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক সৃষ্টি না করে শিশুদের সামগ্রিক বিকাশের স্বার্থে সবাইকে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের চেয়ারম্যান ড. অণিমা রায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিনসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।