জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে বুধবার প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী বলেছেন, ঐক্যে বৈচিত্র্যই বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের মূল ভিত্তি।
তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী, ভাষা, ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষের সহাবস্থানই এই জাতীয় পরিচয়ের শক্তি।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে দুই দিনব্যাপী ‘রবীন্দ্র-নজরুল উৎসব’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বুধবার প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, সংস্কৃতিই একটি জাতির আত্মা। সাংস্কৃতিক চর্চার মাধ্যমেই মানুষের প্রকৃত আত্মপরিচয় বিকশিত হয়।
তিনি আরও বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মানবতা, কৃষক ও গ্রামীণ উন্নয়নের কথা তার সাহিত্য ও কর্মে তুলে ধরেছেন।
অন্যদিকে কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে আপসহীন কণ্ঠস্বর এবং সাধারণ মানুষের কবি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সংস্কৃতি মন্ত্রী বলেন, নতুন প্রজন্মের কাছে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের মানবিক, অসাম্প্রদায়িক ও সাংস্কৃতিক চেতনা পৌঁছে দিতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অনুষ্ঠানে তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের লোকসংগীত ও লোকঐতিহ্য দেশের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ। হাছন রাজা, শাহ আবদুল করিম, রাধারমণ, বিজয় সরকার ও লালন শাহসহ লোকসংগীতের ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে সরকার কাজ করছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগীত বিভাগের চেয়ারম্যান ড. অনিমা রায়।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইস উদ্দিন, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. তাহমিনা আক্তার, বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আজম এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাবিনা শারমিন।
আয়োজকরা জানান, দুই দিনব্যাপী এই উৎসবের প্রথম দিন ‘রবীন্দ্র-পর্ব’ হিসেবে উদযাপিত হচ্ছে। এবং বৃহস্পতিবার ‘নজরুল-পর্ব’ অনুষ্ঠিত হবে।
অনুষ্ঠানে দেশের বিশিষ্ট শিল্পীরা রবীন্দ্রসংগীত ও নজরুলসংগীত পরিবেশন করবেন।