প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ৫৮ মিনিট আগে
মিরপুরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে রবিবার এক মতবিনিময় সভায় কথা বলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে মূল্যবোধভিত্তিক কাঠামোর ওপর পুনর্গঠনের উদ্যোগের অংশ হিসেবে ২০২৮ সালের কারিকুলাম সংস্কারের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, “নতুন কারিকুলামে পারিবারিক মূল্যবোধ, নৈতিক শিক্ষা, নাগরিক দায়িত্ববোধ, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক চেতনা অন্তর্ভুক্ত করা হবে। একই সঙ্গে মৌলিক সাক্ষরতা ও সংখ্যা জ্ঞান (এফএলএন) নিশ্চিত করাই হবে সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।
মিরপুরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে রবিবার এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, নতুন কারিকুলাম প্রণয়নে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের বাস্তব শেখার সক্ষমতা, পাঠ দক্ষতা, গণিত দক্ষতা এবং জীবনঘনিষ্ঠ শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, “ক্লাস-টু বা ক্লাস-থ্রিয়ের শিক্ষার্থী যেন বই পড়ে বুঝতে পারে, নিজের ভাষায় প্রকাশ করতে পারে এবং শেখার প্রতি আগ্রহী হয় সেই লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি”।
তিনি আরও জানান, প্রতিটি শ্রেণির জন্য নির্দিষ্ট ‘লার্নিং আউটকাম’ এবং পঞ্চম শ্রেণি শেষে শিক্ষার্থীদের জন্য ‘এক্সিট প্রোফাইল’ নির্ধারণ করা হবে। এর ভিত্তিতেই পাঠ্যপুস্তক, শিক্ষক নির্দেশিকা, মূল্যায়ন ব্যবস্থা ও অন্যান্য শিক্ষাসামগ্রী তৈরি করা হবে।
নতুন কারিকুলামের অংশ হিসেবে ভিডিও লেসন, ডিজিটাল কনটেন্ট এবং সহায়ক শিক্ষাসামগ্রী তৈরির পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা সম্পূর্ণভাবে খেলাধুলা ও আনন্দভিত্তিক পদ্ধতিতে পরিচালিত হবে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইন্টারঅ্যাকটিভ ফ্ল্যাট প্যানেল (IFP) সরবরাহ করা হবে। তিন বছরের মধ্যে প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে এই প্রযুক্তি স্থাপনের লক্ষ্য রয়েছে।
সভায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি, ব্রাক শিক্ষা কর্মসূচি, গণসাক্ষরতা অভিযান (CAMPE) এবং প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।