যৌন হয়রানির অভিযোগ
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ বুধবার মানববন্ধন করে শিক্ষার্থীরা। ছবি: সংগৃহীত
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে ওই শিক্ষক এক নারী শিক্ষার্থীকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যৌন হয়রানি ও অশালীন বার্তা পাঠিয়েছেন।
এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্রে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ওই নারী শিক্ষার্থী।
এরপর অভিযোগের প্রেক্ষিতে বুধবার তদন্তের জন্য সাত সদস্যের একটি কমিটি কাজ শুরু করেছে। এবং ডিসিপ্লিনের প্রধানের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্রের সভাপতি অধ্যাপক মোছা. তাসলিমা খাতুন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক শিক্ষার্থীকে একাধিক অনাকাঙ্ক্ষিত ও অস্বস্তিকর বার্তা পাঠিয়েছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অধ্যাপক ড. রেজাউল ইসলাম দাবি করেছেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্রমূলক।
তিনি বলেন, গত ফেব্রুয়ারিতে তার মোবাইল ফোন চুরি হয়ে যায়। এরপর তিনি নিজের ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেন এবং এ বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
তার দাবি, অভিযোগে ব্যবহৃত বার্তাগুলোর সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হারুনর রশিদ খাঁন জানান, তদন্তের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ড. রেজাউল ইসলামকে এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রধানের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
তার স্থলে ড. মো. ইয়াসিনকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে বলেও জানান তিনি।
ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার বিকাল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদি চত্বরে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
কর্মসূচিতে বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি কয়েকজন শিক্ষকও অংশ নেন।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের ২৬ ব্যাচের এক শিক্ষার্থীকে ফেসবুক মেসেঞ্জারে কুরুচিপূর্ণ ও অশালীন বার্তা পাঠানো হয়েছে।
তারা দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী অনিমেষ দে বলেন, এটি শুধু একজন শিক্ষার্থীর প্রতি অন্যায় নয়, পুরো শিক্ষার্থী সমাজের নিরাপত্তার ওপর আঘাত।
ক্ষমতার অপব্যবহার করে যেন ভবিষ্যতে কেউ এমন আচরণ করতে না পারে, সে জন্য দৃষ্টান্তমূলক বিচার চান তিনি।
ইংরেজি ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থী রেজওয়ানুল হক রাদ বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদার প্রশ্নে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া উচিত নয়।
অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তিনি।
বিক্ষোভ সমাবেশে সহকারী ছাত্রবিষয়ক পরিচালক ড. মো. তারেক বিন সালাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যৌন হয়রানির বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে।
তিনি জানান, অভিযোগটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্ট সেলে পাঠানো হয়েছে এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়কে নিরাপদ ও হয়রানিমুক্ত শিক্ষাঙ্গন হিসেবে গড়ে তুলতে দ্রুত, নিরপেক্ষ ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।