রাজিব রায়হান, জাবি
প্রকাশ : ৩ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ৩ ঘণ্টা আগে
কাজী রেজাউল করিম রাজু। ফাইল ছবি
আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের শাসনামলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন অসংখ্য মেধাবী শিক্ষার্থী। তারই এক জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী কাজী রেজাউল করিম রাজু।
বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন রাজু।
২০১৩ সালের ৮ এপ্রিল ছাত্রলীগের অতর্কিত হামলার শিকার হন রাজু। হামলার পর তাকে দ্রুত ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনার পর টানা ৬২ দিন হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।
রাজুর বাবা কাজী আব্দুস সুকুর জানান, সন্তানের এই অবস্থা পুরো পরিবারকে মানসিকভাবে ভেঙে দিয়েছিল। বেগম খালেদা জিয়া একাধিকবার যোগাযোগ করেছিলেন তার ছেলের খবর নিতে। মুঠোফোনে তার সাথে কথাও বলেছিলেন তিনি।
হামলার ঘটনার পর তৎকালীন বিএনপির দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং বিএনপির স্বাস্থ্য সম্পাদকের মাধ্যমে নিয়মিত রাজুর চিকিৎসার খোঁজখবর নিতেন বিএনপির সাবেক চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। পাশাপাশি চিকিৎসার জন্য প্রাথমিকভাবে ৩ লাখ ৬৫ হাজার টাকা সহায়তা প্রদান করেন তিনি।
দীর্ঘ ছয় বছর একটানা চিকিৎসার পর রাজু কিছুটা সুস্থ হয়ে ফিরলেও, আগের মতো স্বাভাবিক জীবনে আর কখনোই ফিরে যেতে পারেননি তিনি। সেই নৃশংস হামলার ভয়াবহতা এবং শারীরিক জটিলতা তাকে আজ এক যুগ পরও বয়ে বেড়াতে হচ্ছে।
“বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রথম বর্ষ থেকেই আমি জাতীয়তাবাদী আদর্শের সাথে সক্রিয়ভাবে কাজ করি। ২০১৩ সালের ৮ এপ্রিল বিএনপির কেন্দ্রীয়ভাবে অর্ধদিবস হরতালের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে গিয়েই এই হামলার শিকার হই”, বলছিলেন রাজু।
“চিকিৎসা চলাকালীন আমি ২০১৮ সাল থেকে আবার দলীয় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ শুরু করি। এরপর ২০১৯ সালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রতি মাসেই আমার চিকিৎসার খোঁজখবর নিতেন”।
এখনো বয়ে বেড়াচ্ছেন ক্ষত
“২০১৩ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত এক যুগ সময় আমি নিয়মিত চিকিৎসা নেই। তবে আজও সেই হামলার ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছি আমি”।
২০২০ সালের ২৯ নভেম্বর জাতীয়তাবাদী দলের কার্যক্রমে পার্টি অফিসের সামনে থেকে গ্রেপ্তার করা হয় তাকে। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং তৎকালীন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ফজলুর রহমান খোকনের সহযোগিতায় ২০২১ সালের এপ্রিলে জামিন পান তিনি।
তিনি বলেন, “আমি নিম্ন মধ্যবিত্ত একটি পরিবার থেকে বেড়ে ওঠা সন্তান। ছাত্রলীগের হামলার পর আমার দেশে-বিদেশে চিকিৎসা বাবদ প্রায় কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। আমার পরিবারের সবকিছু শেষ করে দিয়ে আমার বাবা ও আমার মামা আমার চিকিৎসা চালিয়ে গেছেন। যেই সময়টা আমার ক্যারিয়ার গড়ার সময় ছিল, নিজের মা-বাবাকে নিয়ে সুন্দর ভাবে জীবন যাপন করার কথা ছিল সেই সময়টা আমার হাসপাতালে হাসপাতালে কেটেছে”।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “দল আমার জন্য সন্তানের মতো। দলের জন্য আমি আমার জীবনের সবকিছু বিসর্জন দিয়েছিলাম। কিন্তু আজ আমার মতো অসংখ্য নেতাকর্মী যেন দলের কাছে মনে হয় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দলের মূল্যায়ন পাওয়া তো দূরের কথা, এখন আমাদের তদারকি ও করে না তারা। দলের জন্য নিজের মেধা, সময়, অর্থ সবকিছুই দিয়েছি কিন্তু জীবনে কি পেলাম”।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যেন দলের তৃণমূল থেকে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতাকর্মী যারা দলের জন্য নিজেদের সর্বোচ্চ বিসর্জন দিয়েছে তাদের প্রতি শতভাগ আন্তরিক হন। দলে আমাদের মতো যে সকল ত্যাগী নেতাকর্মী শারীরিক অত্যাচার, হামলা, মামলার স্বীকার হয়ে বেঁচে আছেন তারা যেন স্বাভাবিকভাবে জীবন যাপন করতে পারে সে ব্যবস্থা করবেন বলে আশা করছি।