ঢাবি সংবাদদাতা
প্রকাশ : ৩০ ডিসেম্বর ২০২২ ১৭:৪৯ পিএম
আপডেট : ৩০ ডিসেম্বর ২০২২ ১৮:৪৯ পিএম
বৃহস্পতিবার উল্টো পথে যাওয়ার সময় ঢাবির ক্ষণিকা বাসের ধাক্কায় প্রাণ হারান টুটুল নামে এক পথচারী। ছবি : প্রবা
উল্টো
পথে যাওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ক্ষণিকা’ বাসের
চাপায় প্রাণ হারিয়েছেন আলামিন টুটুল নামে এক পথচারী। বৃহস্পতিবার (২৯ ডিসেম্বর) বাসের
ধাক্কায় আহত হওয়ার পর বিভিন্ন হাসপাতাল
ঘুরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীর মালিবাগের একটি বেসরকারি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় মারা যান তিনি।
বাসটিতে
থাকা শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টার দিকে ফার্মগেট বিজয় সরণিতে প্রধানমন্ত্রীর
কার্যালয়ের সামনে টুটুলকে ধাক্কা দেয় বাসটি।
২৪ বছর বয়সি নিহত টুটুল বিজয় সরণির
আওলাদ হোসেন মার্কেটে অবস্থিত সিএসএল নামে একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করতেন।
তার মৃত্যুর
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন
তেজগাঁও থানার ডিউটি অফিসার ও সাব-ইন্সপেক্টর
হাবিবুর রহমান। বিআরটিসির মালিকানাধীন
ওই বাসের চালক বজলুর রহমানকে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ কর্মকর্তা
হাবিবুর রহমান
বলেন, ‘বাসটির ধাক্কায় তিনি (টুটুল) পায়ে ও মাথায় আঘাত
পান। কয়েক হাসপাতাল
ঘুরে মালিবাগ সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন এবং সেখানেই মৃত্যু ঘটে। এ ঘটনায়
নিহতের আত্মীয়রা মামলা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।’
বাসটিতে
থাকা শিক্ষার্থীরা জানান, ক্ষণিকা বাসটি ঢাবি
থেকে টঙ্গী-গাজীপুর
রুটে চলাচল করে।
তারা জানান,
চালক বাসটিকে উল্টো পথে নিলে সেটি টুটুলকে ধাক্কা দেয়। তিনি বাসের নিচে পড়ে গেলে বাস না থামিয়ে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যান চালক। বাসে থাকা
শিক্ষার্থীরা তাকে থামতে
বললেও শোনেননি। কয়েকজন ছাত্র
তখন বাসটি থেকে লাফ দিয়ে টুটুলের অবস্থা দেখতে নেমে যায়। এরপরও চালক গাড়ি
চালিয়ে গেলে বাসে থাকা শিক্ষার্থীরা মারতে যান। এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে গিয়ে বাস দাঁড় করান।
বাসে থাকা
একাধিক শিক্ষার্থী
জানান, ঢাবি শিক্ষার্থীদের বহন করা বাসগুলো প্রায়ই রং সাইড দিয়ে যাতায়াত করে। বাসটি ফার্মগেট
থেকে রং সাইড দিয়েই বিজয় সরণির দিকে এগোচ্ছিল। চালককে সতর্ক
করা হলেও তিনি কারও কথা আমলে নেননি। রং সাইড
দিয়ে বাস চালানোর কারণেই ওই পথচারী প্রাণ হারিয়েছেন।
ক্ষণিকা
বাসে যাচ্ছিলেন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের
শিক্ষার্থী ইমদাদুল আজাদ।
তিনি বলেন, ‘বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টায় বাসটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল-টিএসসি-শাহবাগ-ইস্কাটন-মগবাজার ফ্লাইওভার-কারওয়ান বাজার-ফার্মগেট-বিজয় সরণি-পিএম অফিসের সামনের রুট ব্যবহার করছিল। সাধারণত অন্যান্য দিন প্রায় ৪০ মিনিটে মহাখালী পৌঁছাত এই রুটের বাসগুলো। তবে অতিরিক্ত যাটজটের কারণে এদিন ফার্মগেট আসতেই ৫০ মিনিটের মতো লেগে যায়। এ কারণে ফার্মগেটের পরে চালক রং সাইডে যেতে শুরু করে। এ সময় বিজয় সরণিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনের সড়কে আল আমিন টুটুলকে ধাক্কা দেয় বাসটি।’
তিনি বলেন, ‘টুটুলকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ও তার সহকর্মীরা মিলে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেল (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন। ঢামেকে আনা হলে কিছু টেস্ট করিয়ে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখতে বলেন চিকিৎসক। ঢামেকে আইসিইউ খালি না থাকায় মালিবাগের সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজে নিয়ে গেলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন ম্যানেজার কামরুল হাসান বলেন, ‘আমাদের ওই বাসটি বিআরটিসি থেকে ভাড়ায় চালিত। আমরা গতকাল (বৃহস্পতিবার) এই ঘটনা শুনেছি। জেনেছি যে, এটি সম্পূর্ণভাবে ড্রাইভারের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে হয়েছে। এটির সাথে আমাদের শিক্ষার্থীরা কোনোভাবেই যুক্ত ছিল না। রং সাইডে গাড়ি চালানোর ব্যাপারে আমরা বরাবরের মতোই জিরো টলারেন্স নীতিতে আছি৷ রং সাইডে গাড়ি চালানোর প্রবণতা এখন অনেক কম, তারপরও দু-একজন ড্রাইভার এই হঠকারী সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে। ওদের ব্যাপারে বিআরটিসি সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। বিআরটিসির সাথে আমাদের কথা হয়েছে। তারা ওই পরিবারের পাশে থাকবে। একজন মানুষের জীবন চলে গেছে এর থেকে বড় মর্মান্তিক তো আর কিছু নেই। এরকম ঘটনা আমাদের কাছে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’
শিক্ষার্থীরা জানান, ঢাকা মেট্রো-ব ১৫-৬২০৩ নম্বরের বিআরটিসির দ্বিতল বাসটি ভাড়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বহন করত।