জবি সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২৯ ডিসেম্বর ২০২২ ০০:১৫ এএম
আপডেট : ২৯ ডিসেম্বর ২০২২ ০০:২০ এএম
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের ২২টি বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফাইল ছবি
গুচ্ছভুক্ত ২২ বিশ্ববিদ্যালয়ের সপ্তম ধাপে ভর্তিতে মাইগ্রেশন বন্ধ করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে ভর্তি পরীক্ষার আয়োজক কমিটি। বুধবার (২৮ ডিসেম্বর) রাতে অনুষ্ঠিত গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা আয়োজক কমিটির ভার্চুয়াল সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা এই সভায় যুক্ত ছিলেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা কমিটির আহ্বায়ক ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হক।
তিনি বলেন, ‘মেধা তালিকা অনুযায়ী শিক্ষার্থীরা সাবজেক্ট ও বিশ্ববিদ্যালয় পাবে।
উপাচার্য ইমদাদুল বলেন, ‘আমরা সকল শিক্ষার্থীর ভালো চাই। তাছাড়া আদালত ও শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবর্তনের সুযোগ পুনরায় চালু করা হয়েছে। যেহেতু খুব বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হতে বাকি নেই সেই বিবেচনা করে আমরা মাইগ্রেশনের সিদ্ধান্ত আবার চালু করেছি। কিন্তু এতে ভর্তি প্রক্রিয়া শেষ করতে আরেকটু বেশি সময় লাগবে।’
এসময় সপ্তম মাইগ্রেশনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘যেহেতু সপ্তম মাইগ্রেশন প্রকাশ হয়ে গেছে, এটা বাতিল করা হবে না। তবে বঞ্চিত শিক্ষার্থীদের বিষয়ে বিশেষ বিবেচনা করা হবে।’
তবে বিশেষ বিবেচনার বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি জবি উপাচার্য।
সভা শেষে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদ উদ্দীন আহমদ বলেন, ‘আদালতের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে মাইগ্রেশন চালু করা হয়েছে।’
সপ্তম মাইগ্রেশন বাতিল হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এত কিছু জানি না। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী মাইগ্রেশন চালু থাকবে। আদালত নোটিশে যা বলেছে, তাই হবে। সপ্তম মাইগ্রেশন বাতিলের ব্যাপারে কোনো কথা হয়নি।’
বিশ্ববিদ্যালয় পরিবর্তনের সুযোগ অব্যাহত থাকার খবরে উচ্ছ্বাস জানিয়েছেন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা।
মারিয়া শবনম নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘গুচ্ছ কমিটির এই সিদ্ধান্তে আমরা খুশি। একই সাথে গুচ্ছ কমিটির স্যারদের নিকট একটাই দাবি গোলমাল পূর্ণ সপ্তম মেরিট বাতিল করে পুনরায় ভর্তি প্রক্রিয়া সুন্দরভাবে চালু হোক।’
এর আগে সোমবার (২৬ ডিসেম্বর) রুবেল মিয়া, সাকিব আহমেদ ও আলভী নামে তিন শিক্ষার্থী গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিতে মাইগ্রেশন বন্ধ করার সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন।
শিক্ষা সচিব ও গুচ্ছ বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় থাকা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভিসিকে রিটে বিবাদী করা হয়। বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন সংযুক্ত করে রিট আবেদন করা হয়।
পরে শুনানি শেষে মঙ্গলবার (২৭ ডিসেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিতে মাইগ্রেশন বন্ধ করার সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ নয় তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে হাইকোর্ট। সেই সাথে রিট আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে মাইগ্রেশন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত স্থগিত করে আদালত। ১০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়।
গুচ্ছে ভর্তির ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে ষষ্ঠ মেধাতালিকা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভাগ মাইগ্রেশন চালু ছিল। তবে সপ্তম মেধাতালিকা প্রকাশের পর প্রাথমিকভাবে ভর্তি হওয়া বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি বা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবর্তনের সুযোগ বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
ভর্তি কমিটির এ সিদ্ধান্তের কারণে প্রথম সারির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আসন ফাঁকা থাকলেও শিক্ষার্থীরা ভর্তি হতে পারছেন না। মাইগ্রেশন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাওয়া শিক্ষার্থীরা বিপাকে ছিলেন।