বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ মার্চ ২০২৬ ১২:৫৬ পিএম
আপডেট : ০২ মার্চ ২০২৬ ১৫:৪১ পিএম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাৎসরিক ইফতারে গরুর মাংসের পরিবর্তে মুরগীর মাংস রাখায় রবিবার রাতে শিক্ষার্থীরা ইফতার বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) বার্ষিক ইফতার মাহফিলের মেনুতে গরুর মাংসের পরিবর্তে মুরগীর মাংস রাখায় শিক্ষার্থীরা ইফতার বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে। তারা অভিযোগ করেছেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের অধিকারে হস্তক্ষেপ করে তাদের সঙ্গে তামাশা করেছে।
প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির সভায় রবিবার রাতে জানানো হয়, এ বছরের বার্ষিক ইফতারের মেনুতে গরুর মাংস থাকবে না। এ সিদ্ধান্তের খবর পাওয়ার পরপরই বিভিন্ন হল সংসদ ও শিক্ষার্থীরা ইফতার বর্জনের ঘোষণা দেয়।
শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়া
শহীদ ওসমান হাদি হল সংসদের জিএস আহমদ আল সাবাহ বলেন, শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি উপেক্ষা করে এবং তাদের প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত করে হলের বার্ষিক ইফতার ও রাতের খাবারের আয়োজনে গরু আইটেম না রাখায় আমরা এই বয়কট ঘোষণা করছি।
ফজলুল হক মুসলিম হল সংসদের জিএস মো. ইমামুল হাসান জানান, প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন মিটিংয় ছাড়া সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা যাবে। এবং পরে অনলাইনে জরুরি মিটিং ডাকা হলেও শেষপরন্ত গরুর মাংস না দেওয়ার সিদ্ধান্তই বহাল রাখা হয়।
প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের বিতর্ক
মুহাম্মদ ওসমান গনী, কবি জসিমউদ্দীন হল সংসদের ভিপি। তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সবকিছুকে রাজনীতির দৃষ্টিকোণ থেকে দেখে। ছাত্র সংসদ বনাম প্রশাসনের এই খেলায় শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ।”
ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য মিফতাহুল হুসাইন আল মারুফ বলেন, “ডিনস কমিটি এবং প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির মিটিং শিক্ষার্থীদের বৈধ দাবি উপেক্ষা করেছে। এবারের ইফতারে গরুর মাংস সংযোজনের দাবিও তারা অগ্রাহ্য করেছে। এটা স্পষ্ট শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তামাশা।”
ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের বলেন, “খাবারের মেনুতে একটি আইটেম না থাকায় ইফতার বয়কটকে অনেকেই সাধারণ বিষয় মনে করতে পারেন, কিন্তু এটি মোটেও সাধারণ নয়।
গরুর মাংস এই উপমহাদেশে একটা রাজনৈতিক টুলস। খাওয়া তো দূরের কথা, বহন করলেও মানুষকে প্রাণ দিতে হয়। এই জিনিস এতটাই রাজনৈতিক দ্রব্য যে বাংলাদেশের মতো মুসলিম মেজরিটি কান্ট্রিতেও অনেক রেস্ট্রুরেন্ট গরুর গোশত সার্ভ ই করে না, বলেন জুরায়ের।
প্রশাসনের অবস্থান
ঢাবির মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের প্রভোস্ট ড. মো. নাজমুল হোসাইন বলেন, অধিকাংশ প্রভোস্ট জানিয়েছেন, পূর্বের মেনু অনুযায়ী প্রস্তুতি এর মধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। কিছু পণ্যও কেনা হয়েছে। সময় স্বল্পতার কারণে মেনু পরিবর্তন সম্ভব নয়। তবে আগামী পহেলা বৈশাখে গরুর মাংস ভোজ রাখা হবে।
সাবেক কবি জসিম উদ্দীন হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. শাহিন খান ফোনে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছেন।