পবিপ্রবি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৭:১৪ পিএম
পবিপ্রবি কম্বাইন্ড ডিগ্রি ইস্যুকে কেন্দ্র করে সোমবার ক্লাস ও পরীক্ষা বয়কট করেছেন এনিমেল সায়েন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন (এএনএসভিএম) অনুষদের আওতাধীন এনিমেল হাজবেন্ড্রি (এএইচ) ডিসিপ্লিনের শিক্ষকরা। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) কম্বাইন্ড ডিগ্রি ইস্যুকে কেন্দ্র করে ক্লাস ও পরীক্ষা বয়কট করেছেন এনিমেল সায়েন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন (এএনএসভিএম) অনুষদের আওতাধীন এনিমেল হাজবেন্ড্রি (এএইচ) ডিসিপ্লিনের শিক্ষকরা।
সোমবার “বিএসসি ইন ভেট সায়েন্স অ্যান্ড এএইচ” কম্বাইন্ড ডিগ্রির লেভেল-৪ সেমিস্টার-১ ও লেভেল-১ সেমিস্টার-২-এর চলমান সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। এ সিদ্ধান্তের পর শিক্ষার্থীরা তাৎক্ষণিকভাবে অনুষদের ডিন অফিস ঘেরাও করেন।
এর আগে এএইচ ডিসিপ্লিনের বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যানদের স্বাক্ষরিত এক লিখিত পত্রে অনুষদের ডিন বরাবর জানানো হয়, মহামান্য হাইকোর্টের রায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪তম জরুরি একাডেমিক কাউন্সিল সভার সিদ্ধান্তকে বেআইনি ও অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। সেই রায়ের প্রেক্ষিতে এএইচ ও ডিভিএম ডিগ্রির পরিবর্তে প্রবর্তিত কম্বাইন্ড ডিগ্রির ক্লাস কার্যক্রমে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন শিক্ষকরা।
জেনারেল এনিম্যাল সায়েন্স অ্যান্ড এনিম্যাল নিউট্রিশন বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. শাহবুবুল আলম বলেন, “আমরা আদালতের রায়ের পক্ষে। যেহেতু কম্বাইন্ড ডিগ্রিকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে, তাই এই ডিগ্রির চলমান সেশনের সব ক্লাস-পরীক্ষা কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছি। এএইচ-এর পাঁচটি বিভাগের সব শিক্ষক এ সিদ্ধান্তে একমত”।
তিনি জানান, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের রায়ের কপি বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছেছে এবং প্রশাসন দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ
হঠাৎ করে পরীক্ষা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ কাজ করছে শিক্ষার্থীদের মধ্যে।
লেভেল-৪ সেমিস্টার-১-এর শিক্ষার্থী জাহিদুল হাসান জাহিদ বলেন, “আজ আমাদের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা ছিল। পরীক্ষা দিতে এসে জানতে পারি শিক্ষকরা পরীক্ষা নেবেন না। আমাদের মাত্র একটি পরীক্ষা বাকি ছিল। এতে আমরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছি”।
তিনি জানান, পরীক্ষাটি গ্রহণের দাবিতে শিক্ষার্থীরা ডিন বরাবর লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন।
প্রশাসনের অবস্থান
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. এস এম হেমায়েত জাহান বলেন, এএইচ ডিসিপ্লিনের শিক্ষকরা আদালতের রায়কে সম্মান জানিয়ে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রাখার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “আদালতের রায়ের বিপক্ষে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না। বিষয়টি দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হবে”।
উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, “হাইকোর্টের রায়ে চলমান শিক্ষার্থীদের বিষয়ে নির্দিষ্ট নির্দেশনা নেই। যারা বর্তমানে পড়াশোনা করছেন, তারা চাইলে কম্বাইন্ড ডিগ্রিতে অব্যাহত থাকতে পারবেন অথবা পূর্বের ডিগ্রি কাঠামোয় ফিরে যাওয়ার সুযোগ পাবেন”।
তিনি আরও জানান, রায়ের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আপিল করবে। আপিলে প্রশাসন জয়ী হলে একটি ডিগ্রি কাঠামো বহাল থাকবে, আর আপিলে পরাজিত হলে পূর্বের তিনটি ডিগ্রি কাঠামো চালু রাখতে হবে।