বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫:২৬ পিএম
আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫:৩২ পিএম
রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে শনিবার সকাল ১১টায় পথনাটক ‘ভাষার ক্ষুধা’ উপস্থাপন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নাট্যসংসদ।
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ভাষার অধিকার ও বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের শহিদদের স্মরণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মঞ্চস্থ করা হয়েছে পথনাটক ‘ভাষার ক্ষুধা’।
রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে শনিবার সকাল ১১টায় নাটকটি উপস্থাপন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নাট্যসংসদ।
নাটকটি রচনা ও নির্দেশনায় ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী মুবাশ্বির মাহমুদ নিবিড়।
নাটকের শুরুতে কালো পোশাক পরিহিত অভিনেতারা ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’ লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে মিছিলের আদলে মঞ্চে প্রবেশ করেন।
এরপর ‘কারার ঐ লৌহ কপাট, ভেঙে ফেল কররে লোপাট’ কবিতার আবৃত্তির তালে ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট নাট্যকৌশলের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়।
নাটকে বায়ান্নর আন্দোলনের ইতিহাসের পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা এবং বাংলা ভাষার প্রতি সমকালীন প্রজন্মের মনোভাব নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শিল্পীরা।
রাষ্ট্র ও ক্ষমতা ততক্ষণই ভালোবাসে যতক্ষণ ভাষা নীরব
নাটকের শেষে পরিচালক মুবাশ্বির মাহমুদ নিবিড় বলেন, “রাষ্ট্র ও ক্ষমতা ভাষাকে ততক্ষণই ভালোবাসে, যতক্ষণ ভাষা নীরব থাকে।
“ভাষা যখন প্রশ্ন তোলে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতে চায়, তখনই তাকে দমিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়। সেখান থেকেই আমাদের নাটকের সূচনা।”
নাটকের সহ-নির্দেশক নুসরাত জাহান সাদিয়া বলেন, “বাংলা ভাষা কতটা সুন্দর, তা আমরা এখনও পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারিনি।
“শুধু ভাষার জন্য সংগ্রামের কারণে আজ বিশ্বে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়। এই উপলব্ধি আমাদের ভেতরে তৈরি হলে আমরা আর নিজের ভাষাকে ছোট করে দেখব না।”
দর্শকসারিতে থাকা জগন্নাথ হল সংসদের সাহিত্য সম্পাদক কথক বিশ্বাস বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে দেশে নাট্যচর্চায় একটি খরা লক্ষ্য করেছি। সেই প্রেক্ষাপটে একুশকে কেন্দ্র করে এমন আয়োজন নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ।”
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা নিজেদের উদ্যোগে এ আয়োজন করেছেন, যা আগামী দিনে বাংলাদেশে শিল্প ও সংস্কৃতি চর্চায় ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে এবং অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করবে।