খুলনা অফিস
প্রকাশ : ০৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১৮:২০ পিএম
আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১৮:২৬ পিএম
ন্যায়বিচারের দাবিতে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) প্রশাসনিক ভবনের সামনে টানা ২৪ ঘণ্টার অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন এক শিক্ষার্থী। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বিকাল ৩টা থেকে একাকী এ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০১৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী জাহিদুর রহমান।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ২১ সেপ্টেম্বর ডক্টর এম এ রশিদ হলের ১১৫ নম্বর কক্ষে ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মী তাকে ধরে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করেন। এরপর তার বিরুদ্ধে সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে একটি মামলা করা হয়। ওই মামলায় তিনি ৫২ দিন কারাভোগ করেন। পরবর্তীতে মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেও মানসিক ট্রমা ও আতঙ্কের কারণে দীর্ঘদিন তিনি ক্যাম্পাসে ফিরতে পারেননি।
জাহিদুর রহমান অভিযোগ করেন, ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করলেও তদন্তটি ছিল অস্পষ্ট ও একপেশে। তদন্ত প্রতিবেদনে নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত শিক্ষার্থীদের নাম উঠে এলেও সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। উল্টো যেসব শিক্ষক ও কর্মকর্তার তাকে রক্ষা করার কথা ছিল, তারাই পরে মিথ্যা মামলার সাক্ষী হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। তিনি বলেন, আমি ভিকটিম হওয়া সত্ত্বেও কুয়েট প্রশাসন আমার পাশে দাঁড়ায়নি। তদন্ত প্রতিবেদনে যাদের নাম এসেছে, তাদের আজও বিচারের আওতায় আনা হয়নি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিচার চেয়ে একাধিকবার লিখিত আবেদন, মৌখিক অনুরোধ এবং হাইকোর্টের মাধ্যমে লিগ্যাল নোটিশ পাঠালেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো জবাব দেয়নি। এমনকি ১৪ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া নোটিশেরও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ওই শিক্ষার্থী বলেন, আমার ব্যাচের সবাই ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে গেছে। আমি একা লড়ছি। প্রশাসন মামলা করে না, আমাকে মামলা করতেও সহযোগিতা করে না, আবার তদন্ত প্রতিবেদনও প্রকাশ করে না। আমি বিচারহীনতার শিকার।
তিনি আরও বলেন, কারাবন্দি অবস্থায় চিকিৎসার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আমাকে বা আমার পরিবারকে সরবরাহ করা হয়নি, ফলে আইনি প্রক্রিয়ায় এগোতেও বাধার মুখে পড়ছি। তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না হওয়ায় পুরো বিষয়টি এখনো অস্বচ্ছ রয়ে গেছে বলে দাবি করেন তিনি।
এর আগে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে কুয়েট প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিলেও কোনো সাড়া না পাওয়ায় তিনি অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, আমি জীবিত থাকলে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এখান থেকে এক বিন্দুও নড়ব না। বিচার না পেলে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারব না।
এদিকে টানা ২৪ ঘণ্টা পার হলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার সঙ্গে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ বা আশ্বাস দেওয়া হয়নি বলে জানান ওই শিক্ষার্থী। বিষয়টি ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও আলোচনা সৃষ্টি করেছে।