জকসু
ইউছুব ওসমান, জবি
প্রকাশ : ০৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১১:৩৮ এএম
আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১১:৪০ এএম
দীর্ঘ অপেক্ষা, উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। সহসভাপতি (ভিপি), সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) এই শীর্ষ তিন পদসহ কেন্দ্রীয় সংসদের অধিকাংশ সম্পাদকীয় ও নির্বাহী সদস্য পদে জয় পেয়েছে ছাত্রশিবির সমর্থিত অদম্য জবিয়ান ঐক্য প্যানেল। প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও শেষ পর্যন্ত ফলাফলে শিবির নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে। এদিকে হল সংসদে অধিকাংশ পদে শিবির সমর্থিত ছাত্রী সংস্থা প্যানেল জয় পেয়েছে।

বুধবার রাত ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয়
মিলনায়তনে স্থাপিত জকসুর কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষে ভোট গণনা শেষে ফলাফল ঘোষণা করেন
প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মোস্তফা হাসান।
চূড়ান্ত ঘোষিত ফল অনুযায়ী ভিপি পদে শিবির সমর্থিত
মো. রিয়াজুল ইসলাম পেয়েছেন ৫ হাজার ৫৫৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল সমর্থিত
একেএম রাকিব পেয়েছেন ৪ হাজার ৬৮৮ ভোট। দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান ৮৭০।
জিএস পদে জয় পান শিবির সমর্থিত প্রার্থী আব্দুল
আলিম আরিফ। তিনি পেয়েছেন ৫ হাজার ৪৭৫ ভোট। বিপরীতে ছাত্রদল সমর্থিত খাদিজাতুল কুবরা
পেয়েছেন ২ হাজার ২২৩ ভোট। এতে ৩ হাজার ২৫২ ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন আরিফ।
এজিএস পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল তীব্র। শিবির
সমর্থিত মাসুদ রানা পেয়েছেন ৫ হাজার ২০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল সমর্থিত
বিএম আতিকুর রহমান তানজিল পেয়েছেন ৪ হাজার ২২ ভোট। ভোটের ব্যবধান ৯৯৮।
শীর্ষ তিন পদের বাইরে অন্যান্য সম্পাদকীয় পদেও
শিবির সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীরা উল্লেখযোগ্য জয় পেয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্র
সম্পাদক পদে মো. নূর নবী পেয়েছেন ৫ হাজার ৪০০ ভোট। শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক পদে ইব্রাহীম
খলিল ৫ হাজার ৫২৪ ভোট। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক পদে মোছা. সুখীমন খাতুন পেয়েছেন
৪ হাজার ৪৮৬ ভোট।
স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক পদে নুর মোহাম্মদ
পেয়েছেন ৪ হাজার ৪৭০ ভোট। আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক পদে হাবিব মোহাম্মদ ফারুক আজম পেয়েছেন
৪ হাজার ৬৫৪ ভোট। আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে নওশিন নাওয়ার জয়া পেয়েছেন ৪ হাজার
৫০১ ভোটে। ক্রীড়া সম্পাদক পদে শিবির সমর্থিত জর্জিস আনোয়ার নাঈম পেয়েছেন ৩ হাজার ৯৬৩
ভোট। সমাজসেবা ও শিক্ষার্থী কল্যাণ সম্পাদক পদে মোস্তাফিজুর রহমান ৩ হাজার ৪৮৬ ভোট।
অন্যদিকে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল থেকে সাহিত্য
ও সংস্কৃতি সম্পাদক পদে মো. তাকরিম আহমেদ ৫ হাজার ৩৮৫ ভোট পেয়ে জয়ী হন। পরিবহন সম্পাদক
পদে মো. মাহিদ হোসেন পেয়েছেন ৪ হাজার ২৩ ভোট। পাঠাগার ও সেমিনার সম্পাদক পদে মো. রিয়াসাল
রাকিব পেয়েছেন ৪ হাজার ৬৫৮ ভোট। এই তিন পদেই ছাত্রদল জয় পেয়েছে।
সাতটি নির্বাহী সদস্য পদের মধ্যে পাঁচটিতে
জয় পেয়েছেন শিবির সমর্থিত প্রার্থীরা। তারা হলেন ফাতেমা আক্তার (৩ হাজার ৮৫১), মো.
আকিব হাসান (৩ হাজার ৫৮৮), শান্তা আক্তার (৩ হাজার ৫৫৪), মো. মেহেদী হাসান (৩ হাজার
৩৪৮) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল ফারুক (২ হাজার ৯১৭ ভোট)।
অন্যদিকে ছাত্রদল সমর্থিত মো. সাদমান আমিন
(সাদমান সাম্য) ৩ হাজার ৩০৭ ভোট পেয়ে একটি পদে জয়ী হন। স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. জাহিদ
হাসান ৩ হাজার ১২৪ ভোট পেয়ে একটি নির্বাহী সদস্য পদে নির্বাচিত হন।
হল সংসদে অধিকাংশ পদে ছাত্রী সংস্থা সমর্থিত
প্যানেলের জয়
এদিকে নওয়াব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী হল শিক্ষার্থী
সংসদ নির্বাচনে সহসভাপতি (ভিপি), সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস)
পদসহ প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ পদে একচেটিয়া জয় পেয়েছে ইসলামী ছাত্রী সংস্থা সমর্থিত
‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেল। হল সংসদের ১৩টি পদের বিপরীতে তিনটি থেকে মোট ৩৩ জন প্রার্থী
প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এ হলে মোট ভোটার ছিলেন ১ হাজার ২৪২ জন।
ঘোষিত ফলে দেখা যায়, ভিপি পদে ৫৫০ ভোট পেয়ে
জয়ী হয়েছেন ছাত্রী সংস্থা সমর্থিত প্যানেলের মোছা. জান্নাতুল উম্মি তারিন। তার নিকটতম
প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল সমর্থিত ‘অপরাজিতার অগ্রযাত্রা’ প্যানেলের ফারজানা আক্তার রিমি
পেয়েছেন ২৩৬ ভোট। সাধারণ সম্পাদক পদে ৫৭১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন ছাত্রী সংস্থা সমর্থিত
প্যানেলের সুমাইয়া তাবাসসুম। এ পদে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের
সাদিয়া সুলতানা নেলি পেয়েছেন ৩১৪ ভোট। সহসাধারণ সম্পাদক পদে ছাত্রী সংস্থা সমর্থিত
প্যানেলের রেদওয়ানা খাওলা ৫৪৫ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল সমর্থিত
প্যানেলের শেখ তাসলিমা জাহান মুন পেয়েছেন ৪০৪ ভোট।
অন্যান্য সম্পাদকীয় পদের মধ্যে সাহিত্য ও প্রকাশনা
সম্পাদক হিসেবে ছাত্রদল সমর্থিত ফারজানা আক্তার, সংস্কৃতি সম্পাদক পদে ছাত্রী সংস্থা
সমর্থিত ফাতেমা তুজ জোহরা (ইমু), পাঠাগার সম্পাদক পদে ছাত্রী সংস্থা সমর্থিত ফাতেমা
তুজ জোহরা সামিয়া, ক্রীড়া সম্পাদক পদে ছাত্রী সংস্থা সমর্থিত সাবিকুন নাহার, সমাজসেবা
ও শিক্ষার্থীকল্যাণ সম্পাদক পদে ছাত্রী সংস্থা সমর্থিত ফারজানা আক্তার, স্বাস্থ্য ও
পরিবেশ সম্পাদক পদে মোছা. খাদিজা খাতুন বিজয়ী হয়েছেন। চারটি নির্বাহী সদস্য পদে জয়
পেয়েছেন সাবরিনা আক্তার, নওশীন বিনতে আলম, মোছা. সায়মা খাতুন ও লস্কর রুবাইয়াত জাহান।