তিতাস (কুমিল্লা) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ জানুয়ারি ২০২৬ ১৫:৪০ পিএম
আপডেট : ০২ জানুয়ারি ২০২৬ ১৫:৪৮ পিএম
ঝুঁকিপূর্ণ ভবন নিয়েই ২৫নং মানিক কান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চলছে নিয়মিত পাঠদান। প্রবা ফটো
কুমিল্লার তিতাস উপজেলার ভিটিকান্দি ইউনিয়নের ২৫নং মানিক কান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩ কক্ষ বিশিষ্ট একটি ভবনে ঝুঁকি নিয়ে চলছে পাঠদান। এতে আতঙ্কে রয়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
জরাজীর্ণ এই ভবনটি দীর্ঘদিন ধরেই ‘মরণফাঁদে’ পরিণত হলেও বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়েই ক্লাসে বসতে হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৫ সালে নির্মিত ভবনটি ২০২৩ সালেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে। ভবনের দেয়াল ও ছাদ থেকে নিয়মিত পলেস্তারা খসে পড়ছে। যেকোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এই আশঙ্কা থাকলেও দুই বছরেও নতুন ভবন নির্মাণে কোন দৃশ্যমান উদ্যোগ নেয়া হয়নি। অনেক অভিভাবকই সন্তানদের এমন বিপজ্জনক ভবনে পাঠাতে অনীহা প্রকাশ করছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনটির ভেতরে ছাদের পলেস্টার খসে পড়ছে। বারান্দার পিলারগুলোতে স্পষ্ট ফাটল দেখা দেওয়ার পাশাপাশি কিছু অংশ ভেঙেও পড়েছে। একইভাবে বারান্দার কার্নিশের পলেস্টার উঠে গিয়ে ভেতরের রড বের হয়ে আছে, যা মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত প্রয়োজনীয় সংস্কার ও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে যে কোনো সময় অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দা দুলাল ও শাহীন বলেন, ভবনটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হলেও এখানে নিয়মিত শিশুদের পাঠদান চলছে। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কামাল পারভেজ বলেন, ভবনের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার বিষয়টি একাধিকবার উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে লিখিত ও মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। শিক্ষা কর্মকর্তা কুমিল্লা শিক্ষা অফিসেও ঝুঁকিপূর্ণ ভবন হিসেবে পাঠিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।
তিতাস উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা খাজা মাইনউদ্দিন বলেন, “এই ভবনসংক্রান্ত বিষয়ে আমার পূর্ববর্তী কর্মকর্তা ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন। আমিও বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে দেখছি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”