× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বগুড়ার দুই সরকারি স্কুলে ভর্তি কার্যক্রম শুরু, হট্টগোল

বগুড়া ব্যুরো

প্রকাশ : ২১ ডিসেম্বর ২০২২ ২০:২১ পিএম

আপডেট : ২১ ডিসেম্বর ২০২২ ২০:৩২ পিএম

শিক্ষকদের ওপর চড়াও হন একাধিকবার আবেদনের কারণে বাতিল ঘোষিত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা। ছবি : প্রবা

শিক্ষকদের ওপর চড়াও হন একাধিকবার আবেদনের কারণে বাতিল ঘোষিত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা। ছবি : প্রবা

বগুড়ার দুই সরকারি স্কুলে ২০২টি আসন ফাঁকা রেখেই ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বুধবার (২১ ডিসেম্বর) ভর্তি কার্যক্রম শুরু হলে জিলা স্কুল এবং সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের ওপর চড়াও হন একাধিকবার আবেদনের কারণে বাতিল ঘোষিত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা।

তবে পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। শেষ পর্যন্ত উভয় বিদ্যালয়ে পুলিশ পাহারা শিক্ষার্থীদের ভর্তি করানো হয়।

শিক্ষকরা জানিয়েছেন, তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তির জন্য ইতিপূর্বে ঘোষিত সর্বোচ্চ ৯ বছরের বয়সসীমা তুলে নেওয়ার কারণে ৬ বছর বয়সী অনেক শিক্ষার্থীকেও অভিভাবকরা তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তি করিয়েছেন।

লটারিতে নির্বাচিত মেধাতালিকা থেকে শিক্ষার্থীদের ভর্তির শেষ দিন বুধবার ওই দুই দুই বিদ্যালয়ে মোট ৪১১টি আসনের মধ্যে ২০৯ জন ভর্তির সুযোগ পেয়েছে।

একাধিক আবেদন এবং অন্যান্য ত্রুটির কারণে অনেক আবেদন বাতিল করা হয়। এর মধ্যে বগুড়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তির জন্য লটারিতে নির্বাচিত ২০৬ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৯১ জন ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। বাকি ১১৫ জনের মধ্যে ৩২ শিক্ষার্থীর নামে বিদ্যালয়ে ভর্তির কোনো আবেদন ফরমই জমা পড়েনি। তা ছাড়া একাধিকবার আবেদনের কারণে ৮১ জন এবং নানা ত্রুটির কারণে আরও ২ জনের আবেদন বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।

অন্যদিকে বগুড়া জিলা স্কুলে ভর্তির জন্য লটারিতে নির্বাচিত ২০৫ জনের মধ্যে মাত্র ১১৮ জন ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। বাতিল ৮৭ জনের একাধিক আবেদন পাওয়া গেছে।

উভয় স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, অপেক্ষমান তালিকা থেকে ফাঁকা আসনগুলোতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। আগামী ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত ভর্তি কার্যক্রম চলবে।

সরকারি বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তির জন্য গত ১৬ নভেম্বর থেকে ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করা হয়। তখন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) পক্ষ থেকে তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থীদের বয়সসীমা ৮ বছর থেকে সর্বোচ্চ ৯ বছর পর্যন্ত বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বগুড়া জিলা স্কুল ও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪১১টি আসনের বিপরীতে ২০ হাজারেরও বেশি আবেদন জমা পড়ে।

পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় অনলাইনে লটারির মাধ্যমে ভর্তির জন্য মনোনীত শিক্ষার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়। পরদিন ১৩ ডিসেম্বর সকালে ওই দুই স্কুল কর্তৃপক্ষ লটারিতে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের তালিকাটি ওয়েবসাইট থেকে প্রিন্ট করার পর তাতে এক শিক্ষার্থীর নাম ও ছবি একাধিকবার দেখতে পান। এমনকি বগুড়া সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের মেধা তালিকায় প্রথম, দ্বিতীয় এবং ষষ্ঠ ক্রমিকে একই শিক্ষার্থীর নাম ও ছবি ছিল। 

ওইদিন তাৎক্ষণিক যাচাই-বাছাইকালে দুই স্কুল কর্তৃপক্ষ ভর্তির জন্য লটারিতে নির্বাচিত অন্তত ২০ জন শিক্ষার্থীর নাম একাধিকবার প্রকাশিত হওয়ার প্রমাণ পান।

কর্তৃপক্ষ জানায়, অধিকাংশ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী, তাদের বাবা-মার নাম এবং ফোন নম্বর অভিন্ন রেখে জালিয়াতির মাধ্যমে শুধু জন্মসনদের নম্বর এবং ইউজার আইডি পরিবর্তন করে আবেদন দাখিল করা হয়। এ নিয়ে ১৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ‘প্রতিদিনের বাংলাদেশ’-এর অনলাইন সংস্করণে ‘সরকারি স্কুলে শিশুদের ভর্তি করাতে জন্মসনদ জালিয়াতির অভিযোগ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর ১৪ ডিসেম্বর মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে লটারিতে একাধিবার নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ভর্তি না করতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের নির্দেশ দেওয়া হয়।

ওই নির্দেশনার পর পরই বগুড়া জিলা স্কুল এবং সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ১৭ ডিসেম্বর থেকে লটারিতে নির্বাচিত এবং অপেক্ষমাণ তালিকায় থাকা শিক্ষার্থীদের আবেদনগুলো যাচাই-বাছই শুরু করেন। তাতে দেখা যায়, কোনো কোনো শিক্ষার্থীর নামে জালিয়াতির মাধ্যমে সর্বোচ্চ ১৫৬ বারও আবেদন করা হয়েছে।

পরে বগুড়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য নির্বাচিতদের মধ্যে একাধিবার আবেদন এবং বয়সসীমা অতিক্রমের অভিযোগে ১১৭ জনের আবেদন বাতিল করা হয়। একইভাবে বগুড়া জিলা স্কুলের ১৪০জনের আবেদন বাতিল করা হয়।

তবে ১৯ ডিসেম্বর মাউশি থেকে জারি করা এক নির্দেশনায় তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে আগের দেওয়া সর্বোচ্চ ৯ বছরের বয়স সীমা তুলে দেওয়ার কথা জানানো হয়। এতে উভয় স্কুল কর্তৃপক্ষ নতুন করে আবারও যাচাই-বাছাই শুরু করে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, নতুন করে যাচাই-বাছাই চলাকালে বুধবার দুপুরে একদল অভিভাবক জিলা স্কুলের ভেতরে গিয়ে প্রধান শিক্ষকের কক্ষের সামনে হট্টগোল শুরু করেন। প্রভাতী এবং দিবা শাখায় আলাদা আবেদনের কারণে বাতিল ঘোষিত শিক্ষার্থীদের ভর্তির দাবিতে তারা শিক্ষকদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ান। এক পর্যায়ে তারা শিক্ষকদের ওপর চড়াও হলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

বগুড়া সরকারি বালিকা বিদ্যালয়েও অভিভাবকরা বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করলে সেখানেও পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরে পুলিশের উপস্থিতিতেই উভয় স্কুলে ভর্তি কার্যক্রম শুরু করা হয়।

বগুড়া সদর ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক শাহীনুজ্জামান বলেন, হট্টগোলের খবর পেয়ে আমরা জিলা স্কুলে গিয়েছিলেন। অভিভাবকদের শান্ত করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করি।

বগুড়া সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে সোহেল হোসেন নামের এক অভিভাবকের দাবি, মাউশি থেকে ভর্তির যে নীতিমালা প্রকাশ করা হয় তাতে একই বিদ্যালয়ে দুই শিফটে আবেদন দাখিলের সুযোগ রাখা হয়েছিল। কিন্তু এখন বলা হচ্ছে এক সঙ্গে দুই শিফটে যারা আবেদন করেছে তাদেরকে ‘একাধিকবার আবেদনকারী’ হিসেবে গণ্য করে সেই আবেদনগুলো বাতিল করা হবে।

তিনি বলেন, ‘আমার বাবা মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। আমি সেই কোটায় আমার মেয়েকে ভর্তির আবেদন করেছিলাম। লটারিতে তার নামও এসেছে। কিন্তু শুধু দুই শিফটে আবেদন করার অভিযোগে আমার মেয়েকে ভর্তি করানো হচ্ছে না।’

অভিভাবক সালমা বেগম বলেন, মাউশি ঘন ঘন সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করায় এমন জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে।

বগুড়া সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাবেয়া খাতুন জানান, মাউশির সর্বশেষ নীতিমালা মেনে তারা ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করেছেন।

তিনি বলেন, বয়সসীমা তুলে নেওয়ার কারণে ইতিপূর্বে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া ৩৩ জন আবার ভর্তির সুযোগ পায়। তবে জন্মনিবন্ধন এবং বাবা-মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্রে ত্রুটি থাকায় ৩ জনকে ভর্তি করানো সম্ভব হয়নি। ফাঁকা আসনে অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে ভর্তি করা হবে। 

কমবয়সী শিক্ষার্থীদের ভর্তি করানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে বয়সসীমা তুলে দেওয়া হয়েছে। এ কারণে আমাদের করার কিছু নেই।’

বগুড়া জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক শ্যামপদ মুস্তফী জানান, বয়সসীমা তুলে নেওয়ার কারণে ৫০ জন নতুন করে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা