বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৬:১৩ পিএম
আপডেট : ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৬:২৪ পিএম
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহিদ শরীফ ওসমান হাদীর হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু)। শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) জুমার নামাজের পর কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে শুরু হয়ে এ বিক্ষোভ মিছিল জিরো পয়েন্টে এক সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
বিক্ষোভ মিছিলে ‘ভারতের আগ্রাসন, রুখে দাও জনগণ’, ‘আওয়ামী লীগের দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান, ‘লাল জুলাইয়ের হাতিয়ার, গর্জে ওঠুক আরেকবার’, ‘আমরা সবাই হাদি হব, গুলির মুখে কথা কব’, ‘গোলামী না আজাদী, আজাদী আজাদী’ প্রভৃতি স্লোগান দেন শিক্ষার্থীরা।
সমাবেশে চাকসুর সহ-ছাত্রী কল্যাণ সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস রিতা বলেন, ‘ত জুমায় হাদি ভাই আমাদের সঙ্গে ছিলেন কিন্তু এই জুমায় তিনি নেই, আমরা এখনো এটা মেনে নিতে পারছি না। আজ হাদি ভাইয়ের পরিবারকেই শহিদ পরিবারের কাতারে দাঁড়াতে হচ্ছে। আমরা হাদি ভাইয়ের আদর্শ গ্রহণ করব এবং প্রতিজ্ঞা করব—প্রয়োজনে জান দেব, কিন্তু জুলাই ছেড়ে দেব না। ইন্ডিয়া থেকে এনে হলেও খুনিদের বিচার করতে হবে।’
চাকসুর জিএস সাঈদ বিন হাবিব বলেন, ‘শহিদ হাদি ভাই ৫ আগস্টের পর এক টকশোতে বলেছিলেন– যখন আমরা লড়াই করব, তখন আমাদের শত্রুকে চিনতে হবে। শত্রুকে না চিনলে লড়াই সঠিকভাবে করা যায় না। তার বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি আমাদের শত্রু চিনিয়ে দিয়ে গেছেন। আমরা শাহবাগের কথা বলি, কিন্তু শাহবাগ কীভাবে আমাদের ক্ষতি করেছে, তা হাদি ভাই আমাদের দেখিয়ে দিয়েছেন। আওয়ামী লীগ চলে গেলেও আমরা কালচারাল আওয়ামী লীগকে প্রতিহত করতে পারিনি। হাদি ভাই বুঝেছিলেন এদের প্রতিহত করতে হলে সাংস্কৃতিকভাবেই প্রতিহত করতে হবে।’
চাকসু ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি বলেন, ‘হাদি ভাইয়ের মতো একটি কণ্ঠস্বর আমাদের খুব প্রয়োজন ছিল। তিনি ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে মানুষের হৃদয়ের কথা বলতেন, খেটে খাওয়া মানুষের পক্ষে কথা বলতেন। তিনি মানুষের মনের কথা বুঝতেন বলেই তাকে শহিদ করা হয়েছে। শুধু হাদি নয়—আধিপত্যবাদ এখন অনেকের বিরুদ্ধে কিলিং মিশনে নেমেছে। তারা আবার আধিপত্য কায়েম করতে চায়, দেশের সম্পদ লুটপাটের স্বপ্ন দেখে।’
তিনি আরোও বলেন, ‘জুলাইয়ের অপরাধীদের শাস্তি না হওয়ার কারণেই আজ জুলাইয়ের বীরদের মার খেতে হচ্ছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাসিবাদী শিক্ষকদের নিয়ে দেড় বছর আগে তদন্ত কমিটি গঠন হলেও এখনো কোনো ফয়সালা হয়নি। আমাদের হাত-পা কাটার হুমকি দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু নিরাপদ ক্যাম্পাসের জন্য আমরা হাত-পা নয়, প্রয়োজনে কলিজাও দিতে রাজি। আর স্মারকলিপি নয়, এবার অ্যাকশনে যেতে হবে।’
সমাবেশে চাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক মোনায়েম শরীফসহ হল সংসদের প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন।