বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৪:১০ পিএম
আপডেট : ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৪:২২ পিএম
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি : সংগৃহীত
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচন-২০২৫ ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ৬ জন প্রার্থীর প্রার্থিতা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন।
সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) আজ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, জগন্নাথ
বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনে জাল স্বাক্ষরের ভুয়া
অভিযোগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মোস্তফা হাসান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে
প্রার্থিতা সাময়িকভাবে স্থগিত করার বিষয়টি জানা যায়।
তবে, নির্বাচন কমিশন থেকে ৯ জন বাদ পড়া প্রার্থীর বিষয়ে
আজ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানোর কথাও রয়েছেÑ তাছাড়া গতকাল (রবিবার) ২ জন ভিপি প্রার্থীসহ
মোট ৮ জন তাদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। জকসু নির্বাচন আগামী ৩০ ডিসেম্বর,
২০২৫ তারিখে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। যে শিক্ষার্থীর নামে অভিযোগটি করা হয়েছে, তিনি
জানিয়েছেন, এই অভিযোগ তার করা নয়; বরং তার নাম ও স্বাক্ষর জাল করে এই আবেদন জমা দেওয়া
হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, বাদ পড়া ৬ প্রার্থীর
বিরুদ্ধে অভিযোগকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, পরিসংখ্যান বিভাগের প্রথমবর্ষের শিক্ষার্থী
পাভেল আনামের নাম। পাভেল আনাম নিজেও জকসু নির্বাচনে নির্বাহী সদস্য পদে প্রার্থী ছিলেন।
উল্লেখ্য, ডোপ টেস্টে অংশগ্রহণ না করায় তার নাম চূড়ান্ত
প্রার্থী তালিকা থেকে বাদ পড়ে। অভিযোগপত্রে জকসু নির্বাচন-২০২৫ এর গঠনতন্ত্রের ৪(২)(খ) ধারা উল্লেখ করে বলা হয়, নিষিদ্ধ ঘোষিত
সংগঠনের সদস্যরা নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই ছয়জন প্রার্থীর
প্রার্থিতা স্থগিত করা হয়।
তবে পাভেল আনাম অভিযোগটি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তিনি
জানান, রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) নির্বাচন কমিশনের একজন সদস্য ফোন করে তাকে বিষয়টি
জানানোর পরই তিনি প্রথম জানতে পারেন যে, তার নাম ব্যবহার করে একটি অভিযোগ দাখিল করা
হয়েছে। পাভেলের দাবি, তিনি কখনোই এমন কোনো অভিযোগ করেননি এবং অভিযোগপত্রে থাকা স্বাক্ষরের
সঙ্গে তার স্বাক্ষরের কোনো মিল নেই।
তিনি আরও বলেন, ক্যাম্পাসের বাইরে অবস্থান করায় তিনি
তাৎক্ষণিকভাবে লিখিত আবেদন মোবাইলে পাঠিয়ে নির্বাচন কমিশনকে বিষয়টি অবহিত করেন। ওই
আবেদনে তিনি স্পষ্ট করে উল্লেখ করেন যে, তার নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে
এই অভিযোগ করেছে। একই সঙ্গে তিনি ৬প্রার্থীর প্রার্থিতা পুনর্বহাল এবং স্বাক্ষর জালিয়াতির
ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
পাভেল আনাম আরও বলেন, স্বাক্ষর নকল করে অভিযোগ দায়ের
করার ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দায়ীদের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করব।
এদিকে, গত বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন ১৫৬ জনের চূড়ান্ত
প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে। সেখানে সংশ্লিষ্ট ৬প্রার্থীর নাম না থাকায় বিষয়টি প্রকাশ্যে
আসে এবং ক্যাম্পাসজুড়ে আলোচনা শুরু হয়। পরে জানা যায়, কথিত অভিযোগের ভিত্তিতেই তাদের
প্রার্থিতা স্থগিত রাখা হয়েছে।
প্রার্থিতা স্থগিত হওয়া ছয়জনের মধ্যে রয়েছেন, ছাত্রদল-ছাত্র
অধিকার সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’ প্যানেলের কার্যনির্বাহী সদস্য প্রার্থী
আরিফুল ইসলাম ও মনিরুজ্জামান; ছাত্রশক্তি সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ জবিয়ান’ প্যানেলের এজিএস
প্রার্থী শাহিন মিয়া; এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভিপি পদপ্রার্থী অনুজীব বিজ্ঞান
বিভাগের শিক্ষার্থী চন্দন কুমার দাস, জিএস পদপ্রার্থী সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী
মাবুদা ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক পদপ্রার্থী রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী তানভীর
মাহমিদ শিহাব।
প্রার্থিতা স্থগিত হওয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ছাত্রদল
সমর্থিত প্রার্থী আরিফুল ইসলাম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন,
একজন প্রথমবর্ষের শিক্ষার্থীর পক্ষে এতজন প্রার্থীর বিরুদ্ধে তথ্য জোগাড় করে অভিযোগ
করা অবিশ্বাস্য। তিনি অভিযোগটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যা
দেন এবং মানহানির মামলা করার প্রস্তুতির কথাও জানান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক
মোস্তফা হাসান বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের চূড়ান্তভাবে বাদ দেওয়া হয়নি; বরং অভিযোগের
ভিত্তিতে তাদের প্রার্থিতা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রার্থিতা
বাতিল করা হবে, আর অভিযোগ প্রমাণিত না হলে পুনরায় প্রার্থী তালিকায় তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত
করা হবে।
স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রধান নির্বাচন
কমিশনার বলেন, বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো পাইনি। এ বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হবে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, জকসু নির্বাচনে মোট ২১টি পদে
১৫৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে ১৩ জন, সাধারণ
সম্পাদক (জিএস) পদে ৯ জন এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে ৭ জন প্রার্থী রয়েছেন।
নির্বাহী সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সর্বাধিক ৫৭ জন।