প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৭:৪১ পিএম
যুক্তরাজ্যের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিসের অর্থায়নে ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সহযোগিতায় ‘বাড়ি থেকে বিদ্যালয়–একীভূতকরণের উদযাপন, শিখব সবাই’ প্রকল্পের সমাপনী ও শিক্ষণ বিনিময় অনুষ্ঠান করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের উইন্ডি টাউন হলে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য একীভূত শিক্ষা বিষয়ক প্রকল্পের অর্জন ও শিক্ষণ উদযাপন এবং ভবিষ্যতের জন্য টেকসই পরিকল্পনা শেয়ার করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. সাইদুর রহমান খান। সভাপতিত্ব করেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান। এছাড়া জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, ব্রিটিশ হাই কমিশন, জাতিসংঘ সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী, সিভিল সোসাইটি সংগঠন এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সংগঠনের (ওপিডি) প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বলেন, একীভূত শিক্ষা শুধু নীতিগত অঙ্গীকার নয়Ñএটি একটি দায়িত্ব। আজ আমরা অন্তর্ভুক্তির পথে যাত্রা প্রত্যক্ষ করেছি এবং মাঠ পর্যায়ের কণ্ঠস্বর শুনেছি- যা শিখব সবাই প্রকল্পের সাফল্য তুলে ধরেছে। সমাজসেবা ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরসহ অন্যান্য মন্ত্রণালয়কে গুরুতর প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষার নিশ্চয়তা দিতে হবে। আমি আশা করি, এই প্রকল্পের শিক্ষণ আসন্ন PEDP এবং কৌশলগত পরিকল্পনায় প্রতিফলিত হবে।
ব্রিটিশ হাই কমিশনের ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিলর মার্টিন ডওসন বলেন, শিক্ষা সুযোগ সৃষ্টি করে। বাংলাদেশে স্কুলগামী প্রতিবন্ধী শিশুদের বেশিরভাগই স্কুলে যায় না, যা হাজারো স্বপ্নকে স্থগিত করে রেখেছে। এই প্রকল্প সেই বাস্তবতা পরিবর্তনের জন্য কাজ করেছে এবং আমরা এটি সমর্থন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
সাইটসেভার্স বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর আমৃতা রেজিনা রোজারিও বলেন, এই প্রকল্প দেখিয়েছে যে যখন কমিউনিটি, স্কুল কর্তৃপক্ষ এবং নীতিনির্ধারকরা একসঙ্গে কাজ করে, তখন শিক্ষার প্রতিবন্ধকতা দূর করা সম্ভব। বাড়ি থেকে বিদ্যালয়ে অন্তর্ভুক্তি শিক্ষার নিশ্চয়তার দিকে যাত্রা, যা শিখব সবাই প্রকল্প প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সহায়তায় অর্জন করেছে। এই অগ্রগতি ধরে রাখতে, প্রকল্পের শিক্ষণগুলোকে PEDP-এর মতো নীতি ও কৌশলে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে যাতে কোনো শিশু পিছিয়ে না থাকে।
সাইটসেভারর্সের গ্লোবাল টেকনিক্যাল লিড হামিশ হিগিনসন বলেন, এই প্রকল্প শিক্ষা বিষয়ক অংশীদারদের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও শিক্ষকদের উদ্ভাবনে উৎসাহিত করেছে। ওপিডিদের সক্ষমতা বাড়িয়েছে এবং শিক্ষায় কমিউনিটির আস্থা তৈরি করেছে, যা শিশুদের স্কুলে যেতে উৎসাহিত করেছে।
২০২২ সালের এপ্রিল থেকে শিখবো সবাই প্রকল্পটি সাইটসেভারর্সের নেতৃত্বে এডিডি ইন্টারন্যাশনাল এবং সেন্স ইন্টারন্যাশনালের অংশীদারিত্বে, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সহযোগিতায় বাস্তবায়িত হয়েছে। যা নরসিংদী ও সিরাজগঞ্জ জেলার তিনটি উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এনেছে। প্রকল্পের একীভূত মডেলÑবাড়ি-ভিত্তিক শিক্ষা, স্কুলের জন্য প্রস্তুতি এবং ওপিডি-দের অংশগ্রহণের সমন্বয়েÑপ্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করেছে, যা জাতীয় ও বৈশ্বিক অঙ্গীকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।