শেরপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫ ২২:২৭ পিএম
আপডেট : ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫ ২২:২৯ পিএম
ফুল সজ্জিত ছাদখোলা গাড়িতে সদ্য বিদায়ী প্রধান শিক্ষক মো. সিদ্দিকুর রহমান। প্রবা ফটো
১৯৯৫ সালে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করার পর থেকে নৈমত্যিক ছুটি ছাড়া একদিনও ছুটি নেননি সদ্য বিদায়ী এক প্রধান শিক্ষক। তাই তার সম্মানার্থে চাকরি জীবনের শেষদিনে তাকে রাজকীয় বিদায় দিয়েছে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী।
মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) মঙ্গলবার দুপুরে শেরপুর সদর উপজেলার ভাতশালা ইউনিয়নের চরসাপমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সিদ্দিকুর রহমানের অবসর গ্রহণ উপলক্ষে এমন বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিদায়ী প্রধান শিক্ষক মো. সিদ্দিকুর রহমান ১৯৯৫ সালে সদর উপজেলার ফটিয়ামারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে ১৯৯৯ সালে তিনি বদলি হয়ে চরসাপমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আসেন। এরপর সেখানেই তিনি দীর্ঘ ২৬ বছর নিরবচ্ছিন্নভাবে দায়িত্ব পালন করে গেছেন।
বিদায়ী প্রধান শিক্ষক মো. সিদ্দিকুর রহমান স্মৃতিচারণ করে বলেন, ১৯৯৯ সালে এই বিদ্যালয়ে যোগদানের সময় শিক্ষক ছিলো মাত্র তিনজন। পাকা ভবনও ছিল না। তখন থেকে শিক্ষার্থীদের সন্তানের মতো আগলে রেখে পড়িয়েছি।
আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয়টিই আমার পরিবার। আজকে বিদায় বেলায় এলাকাবাসী, শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা যে সম্মান দিলো আমার আর কিছুই চাওয়ার নেই। আমার সকল সন্তানেরা ভালো থাকুক। আমার প্রাণপ্রিয় বিদ্যালয়টিও ভালো থাকুক, আরও এগিয়ে যাক।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক গোলাম রব্বানী বলেন, অনেকেরই ধারণা যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা হয় না। সেই ধারণাটিকে বদলে দিয়েছিলেন সিদ্দিক স্যার। আমরা তার সাফল্যের সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চাই।
অত্র বিদ্যালয়ের শিক্ষক মাহাদী মাসুদ, আনোয়ারা পারভীন ও হাসি আক্তার বলেন, স্যার আমাদের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে। তার থেকে আমরা শিখেছি নিয়মানুবর্তিতা ও সময়ানুবর্তিতা কী। এমন গুণী শিক্ষকের সাথে কাজ করতে পেরেও আমরা ধন্য।
অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা বলেন, স্যার আমাদের সন্তানের মতো স্নেহ করতেন। অসুস্থ থাকলেও স্যারকে কখনো ছুটি নিতে দেখিনি। একজন আদর্শ শিক্ষক আজ চাকরি থেকে বিদায় নিলেন। তার দেয়া শিক্ষা নিয়ে আজ আমরা নানাভাবে প্রতিষ্ঠিত। আমরা স্যারের দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনা করছি।
ছাইফুল ইসলাম নামে বিদ্যালেয়টির এক সাবেক শিক্ষার্থী বলেন, সিদ্দিক স্যার এই অঞ্চলের আলোকবর্তিকা হয়ে এসেছিলেন। তার ছোঁয়ায় এই অঞ্চলের বহু শিক্ষার্থী প্রাথমিকের গণ্ডি পেরিয়ে উচ্চ শিক্ষা শেষ করেছে।
সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দা মোহসীনা সোবহান বলেন, বিদায় বা অবসর রুটিনমাফিক প্রক্রিয়া। প্রতিমাসেই কোন না কোন শিক্ষক অবসর নিলেও সবাই এমন বিদায় পায় না। সত্যিই তিনি কর্মকালীন জীবনে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেলেন। এটি তার জন্য একটি অনন্য অর্জনের পাশাপাশি আমাদের জন্যও গৌরবের।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠান উপলক্ষে বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংবর্ধনান উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দা মোহসীনা সোবহান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক গোলাম রাব্বানী।
আলোচনা শেষে প্রধান শিক্ষক সিদ্দিকুর রহমানকে ফুলেল শুভেচ্ছা, ক্রেস্ট ও উপহারসামগ্রী প্রদান করা হয়। পরে ফুল সজ্জিত ছাদখোলা গাড়িতে সামনে পেছনে মোটরসাইকেলের শোডাউন দিয়ে তাকে বাড়ি পৌঁছে দেন বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী, শিক্ষক-অভিভাবকরা।