রোকেয়া দিবস-২০২৫
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৯:১৭ পিএম
আপডেট : ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৯:৩২ পিএম
রোকেয়াকে ‘মুরতাদ কাফির’ বলা সেই রাবি শিক্ষক ও তার করা ফেসবুক পোস্ট। প্রবা ফটো
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক খন্দকার মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান বেগম রোকেয়াকে ‘মুরতাদ কাফির’ হিসেবে উল্লেখ করেছন। মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) সকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে তার ব্যক্তিগত প্রফাইলে বেগম রোকেয়ার জন্মদিন নিয়ে একটি পোস্ট শেয়ার করে ক্যাপশনে তিনি এ কথা লিখেন।
তার এই পোস্ট ঘিরে ফেইসবুকে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।
পোস্টটির স্ক্রিনশট শেয়ার করে গত রাকসু নির্বাচনের বিতর্ক ও সাহিত্য সম্পাদক পদের প্রার্থী মামুনুজ্জামান স্নিগ্ধ লিখেছেন, পবিত্র ধর্মগুলোকে ব্যবহার করে ঐতিহাসিক ভাবেই নারীকে নিপীড়ন, অত্যাচার করা হয়েছে। রোকেয়া সে কথা গুলোর বিরুদ্ধেই লিখেছেন। অথচ সেই শিক্ষক নারী শিক্ষার অগ্রদূত রোকেয়া (নট বেগম রোকেয়া) কে কাফের মুরতাদ বলে পোস্ট করলেন।
তিনি আরও লিখেছেন, এই ভদ্রলোক যে বিভাগে শিক্ষকতা করেন ওই একই বিভাগে নারী শিক্ষকও আছেন, হিজাব ব্যবহার করেন না এমন শিক্ষার্থীও আছেন। কিংবা ওনার বিরুদ্ধ মত-পথের মানুষ আছেন। এসব মানুষ এবং নারী শিক্ষার্থীরা কী আদৌও এই শিক্ষকের কাছে নিরাপদ?
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাকসুর সাংস্কৃতিক সম্পাদক জায়িদ হাসান জোহা বলেন, ‘সবারই নিজস্ব দর্শন থাকে, আর তার মাপকাঠিও আলাদা। তবে এ ধরনের মন্তব্য প্রকাশ্যে না বলাই উত্তম বলে মনে করি। এর বেশি কিছু বলতে চাই না।’
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে জনপ্রিয় অ্যাক্টিভিস্ট সাদিকুর রহমান খান লিখেছেন, বেগম রোকেয়াকে কাফের আর মুরতাদ বলে গালি দিয়েছেন রাজশাহী ইউনিভার্সিটির এক টিচার। বোঝায় যাচ্ছে, রোকেয়া এনাদের কোন লেভেলের ট্রমা দেয়। যে মানুষটা প্রায় ১০০ বছর আগে মারা গেছেন, সেই মানুষটারে এখনও গালিগালাজ করা লাগে। এ থেকেই প্রমাণ হয়, বেগম রোকেয়া কতটা সফল ছিলেন।
শিক্ষকের এমন মন্তব্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক পরমা পারমিতা বলেন, ‘বেগম রোকেয়া ছিলেন উপমহাদেশের নারীশিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধের অন্যতম পথিকৃৎ। তিনি কখনোই ধর্মবিদ্বেষী ছিলেন না; বরং অন্ধ কুসংস্কার, বৈষম্য ও অজ্ঞতার বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন—যা ইসলামসহ সব ধর্মই সমর্থন করে।’
তিনি আরও বলেন, বেগম রোকেয়ার জন্মদিনে তাকে হেয় করার অপচেষ্টা তার বিশাল অবদানকে ছোট করতে পারে না; বরং আমাদের নিজেদের সংকীর্ণ মানসিকতার পরিচয়ই প্রকাশ পায়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে খন্দকার মুহাম্মদ মাহমুদুল হাসান জানান, তিনি সাজিদ হাসান নামের একজনের পোস্ট শেয়ার করে ক্যাপশনে ওই কথাগুলো লিখেছেন। তার দাবি, সাজিদ হাসানের ওই পোস্ট পড়ে বেগম রোকেয়াকে ইসলামবিদ্বেষী বলে মনে হয়েছে তার।
তিনি প্রতিবেদককে আরও বলেন, ‘এই পোস্টের লেখাগুলো ভেরিফিকেশনের জন্য বড় আলেমের কাছে যেতে হবে। আপনি বুঝবেন না। আলেমের কাছে গেলেই আপনি বুঝবেন তিনি কাফের বা মুরতাদ ছিলেন কি না!’
বেগম রোকেয়ার অন্য কোনো লেখা পড়েছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি দাবি করেন, রোকেয়ার লেখা উপন্যাস তিনি পড়েছেন।
খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, সাজিদ হাসান নামের ওই ফেসবুক আইডিতে বেগম রোকেয়ার রচনাবলি থেকে ইসলাম সম্পর্কিত বিভিন্ন অংশ খণ্ড খণ্ডভাবে তুলে ধরা হয়েছে, যা শেয়ার করেই রাবি শিক্ষক এই মন্তব্য করেন। একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের এমন মন্তব্য ঘিরে এরই মধ্যে সমালোচনা শুরু হয়েছে।
এ বিষয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীব বলেন, ‘এটা তার ব্যক্তিগত অভিমত। এটা অনেকের ভালো লাগবে না। এটা আমি ব্যক্তিগতভাবে এন্ডোর্স (সমর্থন) করি না।’