বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৯:০২ পিএম
আপডেট : ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৯:৪৩ পিএম
‘বরিশাল মুক্ত দিবস’ উপলক্ষে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যায়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘বরিশাল ডিভিশনাল স্টুডেন্টস অ্যাসেসিয়েশন’ (বিডিএসএ) সংগঠনের প্রদীপ প্রজ্বলন। ছবি: প্রবা ফটো
নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) ‘বরিশাল মুক্ত দিবস’ পালিত হয়েছে। সোমবার (৮ ডিসেম্বর) আঞ্চলিক সংগঠন ‘বরিশাল ডিভিশনাল স্টুডেন্টস অ্যাসেসিয়েশন’ (বিডিএসএ) এর আয়োজনে বিশ্ববিদ্যায়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এ দিবস পালিত হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রভাষক মো. গোলাম মাহমুদ পাবেল, বরিশাল আঞ্চলিক সংগঠনের সভাপতি শামীম হাসান ইয়াদ, সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল এবং সংগঠনের বিভিন্ন ব্যাচের সদস্যরা।
অনুষ্ঠানে ফুল দিয়ে বাংলাদেশের মানচিত্র একে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার জুড়ে মাটির প্রদীপ প্রজ্বলন করা হয়। অনুষ্ঠানের আলোচনা পর্বের শুরুতে "মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক" কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এতে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে ১ম স্থান অর্জন করেন সংগঠনের সদস্য তারিফ হোসেন, এবং ২য় স্থান অর্জন করে সংগঠনের নারী বিষয়ক সম্পাদক নীলা আক্তার।
সংগঠনের পক্ষ থেকে উভয় বিজয়ীকে পুরস্কার হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্পর্কিত বই ও নগদ অর্থ প্রদান করা হয়।
কুইজ প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ
১৯৭১ সালের এই দিনে অগ্রসরমান মুক্তিযোদ্ধাদের ভয়ে বরিশাল শহর থেকে ডেরা গুটিয়ে পালিয়ে যায় দখলদার পাক বাহিনী । ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বরিশাল শত্রুকবলিত হওয়ার আগেই সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠা হয়েছিল স্বাধীন বাংলা সরকারের অস্থায়ী সচিবালয়। যা আজও সংরক্ষিত রয়েছে।
বরিশাল শহর কেন্দ্রীক বিভিন্ন সড়ক চারদিক থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ায় স্টিমার ও কার্গোতে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী বরিশাল ত্যাগ করে।
পাকবাহিনীর শহর ত্যাগের খবরে ৮ মাস ধরে অবরুদ্ধ বরিশালের মুক্তিকামী মানুষ বিজয়ের আনন্দে রাস্তায় নেমে আসে।
বিডিএসএ সংগঠনের সভাপতি শামীম হাসান ইয়াদ বলেন, ‘আজ ৮ ডিসেম্বর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে বরিশাল মুক্ত দিবস সফলভাবে সম্পন্ন করতে পেরে আমরা গর্বিত। এই আয়োজনকে সার্থক করে তোলার জন্য সকল শিক্ষক,অতিথি, শিক্ষার্থী ও আমাদের সংগঠনের সদস্যদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।
স্বাধীনতার স্মৃতিকে নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করাই ছিল আমাদের মূল উদ্দেশ্য। আমরা বিশ্বাস করি আজকের আয়োজন সেই লক্ষ্য পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।’
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল বলেন,‘ বরিশাল মুক্ত দিবস আমাদের গৌরবের দিন। তাই আমরা প্রতিবছর আমাদের বরিশাল সংগঠনের মাধ্যমে এই দিনটিকে নানা আয়োজনের মাধ্য দিয়ে পালন করি। পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর হাত থেকে বরিশালের মুক্তির এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে আমরা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি সকল শহীদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাকে। স্বাধীনতার চেতনাকে ধারণ করে আমরা এগিয়ে যাবো উন্নত,মানবিক বাংলাদেশ গঠনের পথে।’