প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৯:৩৪ পিএম
আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৯:৩৮ পিএম
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির প্রস্তাবিত অধ্যাদেশ জারির দাবিতে সোমবার শিক্ষা ভবনের সামনে সড়ক অবরোধ করে নানা স্লোগান দেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। ছবি: ফোকাস বাংলা
রাজধানীর সাত সরকারি কলেজ নিয়ে প্রস্তাবিত ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির’ প্রথম ব্যাচের (২০২৪–২৫) ক্লাস আগামী ১ জানুয়ারি শুরু করার কথা জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। অধ্যাদেশ জারির দাবিতে চলমান আন্দোলনের মধ্যেই মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানাল।
সোমবার (৮ ডিসেম্বর) বিকালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগের বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশের খসড়া সব পক্ষের মতামত পর্যালোচনা করে পরিমার্জন ও চূড়ান্ত করা হচ্ছে। আগামী ২৫ ডিসেম্বর খসড়া নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
মন্ত্রণালয় জানায়, প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুলিং কাঠামো নিয়ে আপত্তি তুলে আন্দোলনে নামা শিক্ষকদের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে। এসব শিক্ষক ‘সরকারি কর্মচারী হিসাবে পেশাদ্বারিত্ব বজায় রাখবেন’ বলে মন্ত্রণালয় আশা করছে।
সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের একটি অংশ ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ দ্রুত জারির দাবিতে রবিবার থেকে শিক্ষা ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, ২৫ ডিসেম্বর অধ্যাদেশের খসড়া আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় উপস্থাপন করা হবে।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর অধ্যাদেশর খসড়া প্রকাশিত হয়, যেটির প্রস্তাবিত স্কুলিং কাঠামোর বিরোধিতা করছেন কলেজগুলোর শিক্ষা ক্যাডারের শিক্ষকরা।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, খসড়ার বিষয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সুধীজনসহ বিভিন্ন মহল থেকে পাঁচ হাজারের বেশি মতামত পাওয়া গেছে। পাশাপাশি শিক্ষক, শিক্ষার্থী, শিক্ষাবিদ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উদ্যোগে তিনটি মতবিনিময় সভা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মতামত সংগ্রহের কাজও সম্পন্ন করা হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, অধ্যাদেশ চূড়ান্ত করাসহ সামগ্রিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার মধ্যবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা যেন কোনোভাবে বিঘ্নিত না হয়, সে লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে।
মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষে তিন ইউনিটে ৯ হাজার ৩৮৮ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছেন। তাদের ভর্তি, রেজিস্ট্রেশন ও ক্লাস পরিচালনার জন্য একটি অপারেশন ম্যানুয়েলও অনুমোদন করা হয়েছে। গত ৪ ও ৭ ডিসেম্বর অধ্যক্ষ ও শিক্ষক প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের ভিত্তিতে জানানো হয়, শীতকালীন ছুটি শেষে ১ জানুয়ারি থেকে ক্লাস শুরু করা সম্ভব হবে।
ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজ এবং সরকারি তিতুমীর কলেজকে নিয়ে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি গঠনের কার্যক্রম যখন চলছে, তখন এর আশু কাঠামো নিয়ে কলেজগুলোর শিক্ষকরা ও শিক্ষার্থীদের কয়েকটি অংশ মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছেন।
খসড়া অধ্যাদেশে সাতটি কলেজকে চারটি স্কুলে বিভক্ত করে ‘ইন্টারডিসিপ্লিনারি’ বা ‘স্কুলিং’ কাঠামোতে বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবনা অনুযায়ী কলেজগুলো উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠদানও চালু থাকবে।
‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির’ প্রস্তাবিত কাঠামোতে সাতটি কলেজসহ সারা দেশের সরকারি কলেজগুলোতে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা পদোন্নতির মতো মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার শঙ্কায় আছেন।
তারা কলেজগুলোর স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখে ‘অধিভুক্তিমূলক কাঠামোতে’ নতুন বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন। আর কলেজগুলোর বর্তমান শিক্ষার্থীদের একাংশ নতুন বিশ্ববিদ্যালয়টির আইনি কাঠামো দ্রুত নিশ্চিত করার পক্ষে অবস্থান নিয়ে দ্রুততম সময়ে অধ্যাদেশ জারির দাবি জানাচ্ছেন।
অপর দিকে উচ্চমাধ্যমিক ও অনার্স-মাস্টার্স পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের একাংশ শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের মতই প্রস্তাবিত কাঠামোর বিরোধিতা করে বলছেন, স্কুলিং কাঠামোতে কলেজগুলোর স্বাতন্ত্র্য বজায় থাকবে না। এমন বাস্তবতায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় অধ্যাদেশ সংশোধন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে; যদিও এ প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ বলেও জানানো হয়েছে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে।