প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ ডিসেম্বর ২০২৫ ২১:২৬ পিএম
ইডেন মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ মিছিল। ছবি : সংগৃহীত
ঢাকার সরকারি সাত কলেজকে কেন্দ্র করে প্রস্তাবিত ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’র অধ্যাদেশ জারি নিয়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। এর জেরে বুধবার (৩ ডিসেম্বর) ইডেন মহিলা কলেজ ও সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের পৃথক বিক্ষোভ এবং সড়ক অবরোধে দিনভর উত্তপ্ত ছিল মিরপুর রোড এলাকা। অবরোধের কারণে তীব্র যানজটে স্থবির হয়ে পড়ে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি। দাবি আদায়ে আগামী রোববার থেকে শিক্ষা ভবনের সামনে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
এদিন বেলা ১১টায় পাঁচ দফা দাবিতে কলেজ ফটকের সামনের সড়ক অবরোধ করেন ইডেন মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীরা। তাঁদের অভিযোগ, প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি গঠিত হলে ইডেনের দীর্ঘদিনের স্বতন্ত্রতা, নারীবান্ধব পরিবেশ ও একাডেমিক ধারাবাহিকতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পরে শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে ঢাকা কলেজের সামনে গিয়ে একই দাবিতে অবস্থান নেন।
দুপুর সোয়া ১টার দিকে ঢাকা কলেজ থেকে সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়। আজিমপুর মোড় ঘুরে তারা দুপুর ২টার পর ঢাকা কলেজের সামনের সড়কে অবস্থান নেন। পরে সড়কের দুই পাশ বন্ধ হয়ে গেলে মিরপুর সড়কে পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়ে যান চলাচল। সাড়ে ৩টার দিকে শিক্ষার্থীরা সড়ক ছেড়ে দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
বিক্ষোভ শেষে ব্রিফিংয়ে সাত কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী প্রতিনিধি আব্দুর রহমান আসন্ন রোববার থেকে শিক্ষা ভবনের সামনে ‘লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি’ ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, আজ–কালকের মধ্যে অধ্যাদেশ জারি না হলে রোববার সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য শিক্ষা ভবনের সামনে অবস্থান করব। প্রয়োজনে সেখানেই রান্নাবান্না করে অবস্থান চলবে।
সরকার সম্প্রতি সাত কলেজকে একীভূত করে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ গঠনের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিলেও কাঠামো নিয়ে তীব্র মতভেদ দেখা দিয়েছে।
স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা দ্রুত অধ্যাদেশ জারির পক্ষে। তাদের অভিযোগ, তিন দফা আলোচনার পরও কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। ফলে দেড় লাখ শিক্ষার্থী ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।
এদিকে সাত কলেজের শিক্ষকদের সংগঠন ‘সাত কলেজ স্বাতন্ত্র্য রক্ষা পরিষদ’ প্রস্তাবিত ‘স্কুলিং পদ্ধতি’ এবং ইন্টারডিসিপ্লিনারি কাঠামোর বিরোধিতা করছে। তাদের দাবি, বর্তমান স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখা এবং সব একাডেমিক–প্রশাসনিক পদে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারকে স্থায়ীভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা মনে করছেন, প্রস্তাবিত কাঠামো বাস্তবায়িত হলে পদোন্নতির মতো মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ২৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত খসড়া অধ্যাদেশে সাত কলেজকে চারটি স্কুলে বিভক্ত করে ইন্টারডিসিপ্লিনারি কাঠামোতে বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের প্রস্তাব দেয়। একই সঙ্গে এখানকার উচ্চমাধ্যমিক স্তরের পাঠদান চালু রাখার কথাও বলা হয়েছে। সরকার ইতোমধ্যেই রূপান্তর প্রক্রিয়া এগিয়ে নিলেও শিক্ষার্থীদের চাপ এবং শিক্ষক-ক্যাডার কর্মকর্তাদের আপত্তিতে পুরো প্রক্রিয়া এখন জটিল ও মুখোমুখি পরিস্থিতির দিকে এগোচ্ছে।
এদিকে শিক্ষা ভবনের সামনে শিক্ষার্থীদের লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি আরও ব্যাপক রূপ নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অধ্যাদেশ জারির সময়সীমা নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কোনো সুনির্দিষ্ট ঘোষণা না দেওয়ায় অনিশ্চয়তাও বাড়ছে।