রংপুর অফিস ও বেরোবি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০১ ডিসেম্বর ২০২৫ ২০:৪১ পিএম
স্থগিত হয়েছে বহুল প্রত্যাশিত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (ব্রাকসু) নির্বাচন তফসিলের কার্যক্রম। হলভিত্তিক ভোটার তালিকার অসংগতি দূর না হওয়া পর্যন্ত তফসিলের কার্যক্রম স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন। সেই সঙ্গে সঠিক তথ্য নথিপত্র প্রাপ্তির আগ পর্যন্ত কমিশন কোনো চাপের কাছে নতি স্বীকার করে ত্রুটিপূর্ণ নির্বাচন চালিয়ে যাবে না বলেও ঘোষণা দেয়।
এর মধ্য দিয়ে গত দুদিন ধরে মনোনয়ন ফরম নেওয়া শিক্ষার্থীদের মাঝে নির্বাচনী আমেজ ম্লান হয়ে গেছে। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করছে। অনেক শিক্ষার্থী ব্যঙ্গ করে সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, ‘ব্রাকসু নির্বাচন যেন এক রঙ্গমঞ্চ’। এদিকে ভুল তথ্য সরবরাহকারীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনাসহ যথা সময়ে ব্রাকসু নির্বাচনের কথা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
ভর্তি বাতিল হয়েছে, কোন অপরাধের কারণে কোন ছাত্রের ছাত্রত্ব বাতিল হয়েছে এসব নির্ভুল তথ্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নির্বাচন কমিশনকে সরবরাহ করবে। এসব তথ্যের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব সিদ্ধান্তের কোনো সুযোগ নেই।
এ সময় নির্বাচনের কার্যক্রম কোনোরূপ বিলম্ব ছাড়াই পুনরায় শুরু করতে ভোটার তালিকার সব ভুল, বাদ পড়া, দ্বৈততা, অসামঞ্জস্য দ্রুত সংশোধন করে নির্বাচন কমিশনের কাছে সরবরাহ করতে রেজিস্ট্ররা অফিসের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা : বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক শামসুর রহমান সুমন বলেন, আজ সারাদিন ব্রাকসু নির্বাচন নিয়ে একটি উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছিল। দিনের শেষে নির্বাচন কমিশন যে সিদ্ধান্ত দিল তা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণার শামিল। নির্বাচনের তফসিল একটি কাগজ কিংবা ডেডলাইন নয়। এটি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতিশ্রুতি। আমরা কমিশন ও প্রশাসনের দ্বন্দ্ব দেখতে চাই না। নির্ধারিত তারিখে ব্রাকসু নির্বাচন দেখতে চায় শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থী মো. আরমান বলেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বেরোবি প্রশাসন ও কমিশনের প্রতারণা মেনে নেওয়া হবে না। আমরা তাদের কর্মকাণ্ডে হতাশ। আমরা অনশন করে ব্রাকসুর গেজেট পাস করিয়েছি। ব্রাকসু নির্বাচনের জন্য আমাদের হয়তো আবারও আন্দোলন করতে হবে।
যা বলছে প্রশাসন : নির্বাচন কমিশনকে ভুল তথ্য সরবরাহের সঙ্গে জড়িতদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার কথা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সোমবার (১ ডিসেম্বর) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট রুমে উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকাত আলী সাংবাদিকদের জানান, আজ নির্বাচন কমিশন সাংবাদিক সম্মেলন করে যে বক্তব্য দিয়েছে তা কমিশন ও প্রশাসনের জন্য বিব্রতকর। নির্বাচন কমিশনের কাছে সরবরাহ করা ভোটার তালিকায় ভুল হওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ও আমরা লজ্জিত। এ ভুলের সঙ্গে জড়িতদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে। সেই সঙ্গে এর পেছনে কেউ জড়িত রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হবে। সেই সঙ্গে কমিশন নির্বাচন স্থগিত করতে পারে না। আমরা দ্রুত সময়ে ত্রুটি সংশোধন করে যথাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানে কাজ করছি।