প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০১ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৩:০৭ পিএম
বার্ষিক, নির্বাচনি ও জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা শুরু হয়েছে আগেই। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) বারবার নির্দেশনা দিয়ে সকল সরকারি-বেসরকারি মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের ওপর জোর দিচ্ছে। তবুও রাজধানীর বেশ কয়েকটি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকরা দাবি-দাওয়ার পক্ষে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন। এতে আসন্ন পরীক্ষাগুলো নির্বিঘ্নে আয়োজন নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
সোমবার (১ ডিসেম্বর) মাউশির জারি করা সর্বশেষ নির্দেশনায় বার্ষিক পরীক্ষা ২০ নভেম্বর থেকে ৭ ডিসেম্বর, নির্বাচনি পরীক্ষা ২৭ নভেম্বর থেকে ১১ ডিসেম্বর এবং জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা ২৮ থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী সম্পন্ন করার বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করা হয়। নির্দেশনায় পরীক্ষাকালীন শৈথিল্য বা অনিয়ম পেলে কঠোর শাস্তির কথাও জানানো হয়েছে। কিন্তু এসব নির্দেশনার পরও আন্দোলনে নেমেছেন সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একাংশ শিক্ষক।
জানা গেছে, রাজধানীর বিভিন্ন স্কুলে তারা নিয়মিত বৈঠক করছেন আন্দোলন আরও সক্রিয় করার লক্ষ্যে। এরই মধ্যে গণভবন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক (ভৌত বিজ্ঞান) আবু হাসেম শ্যামল সোমবার একাধিক বৈঠকে শিক্ষকদের আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। বিদ্যালয়টির কয়েকজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, পরীক্ষার চাপের মধ্যেও চলমান আন্দোলন থামানোর কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
শিক্ষকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে দাবি-দাওয়া বাস্তবায়নে গড়িমসি চলায় তারা আন্দোলনে যেতে বাধ্য হয়েছেন। তবে পরীক্ষার ঠিক আগে এ ধরনের তৎপরতায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষা প্রশাসন সবাই দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। কয়েকটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা বলছেন, পরীক্ষাকালীন যেকোনো অস্থিরতা সংঘটনের ঝুঁকি রয়েছে- তাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তারা সমন্বয়কারী বৈঠক করছেন।
মাউশির একজন কর্মকর্তা জানান, সরকারি নির্দেশনার পরও যদি পরীক্ষায় ব্যাঘাত সৃষ্টি হয় বা কর্তব্যে অবহেলা পাওয়া যায়, সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, শিক্ষকরা দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট হবেন এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হতে দেবেন না।
পরীক্ষার সময়সূচি কঠোরভাবে অনুসরণ ও পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার ওপর সরকার জোর দিচ্ছে। তবে মাঠ পর্যায়ে চলমান আন্দোলন কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো ইঙ্গিত নেই। শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা ইতিমধ্যে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন- পরীক্ষা স্বাভাবিকভাবে অনুষ্ঠিত হবে তো?