বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩০ নভেম্বর ২০২৫ ১৩:৫৫ পিএম
আপডেট : ৩০ নভেম্বর ২০২৫ ১৫:৫৫ পিএম
ক্যাম্পাস আবর্জনামুক্ত ও পরিবেশবান্ধব করার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) উদ্যোগে পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
রবিবার (৩০ নভেম্বর) দিনব্যাপী ‘ক্লিন ক্যাম্পাস ডে উইথ চাকসু’ এই কর্মসূচি পালন করে।
এদিন সকালে ক্যাম্পাসের ১২টি স্থানে ভাগ হয়ে এই কর্মসূচি পালিত হয়। স্থানগুলো হলো- বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশন, নতুন কলা অনুষদ, পুরাতন কলা অনুষদ, জীববিজ্ঞান অনুষদ, বিজ্ঞান অনুষদ, শহীদ মিনার, বুদ্ধিজীবী প্রাঙ্গণ, মেয়েদের হল, বোটানিক্যাল গার্ডেন, স্মরণ চত্বর, ছেলেদের হল ও চাকসু প্রাঙ্গণ।
কর্মসূচি সফল করতে সহযোগিতা করেছে গ্রিন ভয়েস, আওয়ার গ্রিন ক্যাম্পাস, ক্যারিয়ার ক্লাব, কনজিউমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব), CUSS, 3R, CUES এবং PADF - এই আটটি সংগঠন।
চাকসুর এজিএস আয়ুবুর রহমান তৌফিকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার। সভাপতির বক্তব্য রাখেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসনিক) ড. মো. কামাল উদ্দীন। এ সময় চাকসুর সাধারণ সম্পাদক সাঈদ বিন হাবিব, সমাজসেবা ও পরিবেশ সম্পাদক তাহসিনা রহমান এবং হল সংসদের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, বিভিন্ন ক্রিয়াশীল সংগঠনের প্রতিনিধি, পরিবেশবাদী সংগঠন এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
চাকসুর সমাজসেবা ও পরিবেশ সম্পাদক তাহসিনা রহমান বলেন, ‘ক্যাম্পাসে এতো পরিচ্ছন্নতাকর্মী থাকার পরও কেন আমাদের এত বড় আয়োজন? কারণ, আমরা বার্তা দিতে চাই যে, পরিচ্ছন্নতা কর্মীর দায়িত্ব একার নয়- এটি আমাদের সবার দায়িত্ব। ক্যাম্পাসের ময়লা পরিষ্কার করার দায়িত্বও আমাদের সবার।’
চাকসুর সাধারণ সম্পাদক সাঈদ বিন হাবিব বলেন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানটি আমাদের প্রতীকী উদ্যোগ। এর মাধ্যমে আমরা বার্তা দিতে চাই- এটি শুধু রাষ্ট্রের কাজ নয়, সবার দায়িত্ব। একই সঙ্গে আজকের কর্মসূচির মাধ্যমে বলতে চাইÑ এটি শুধুমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের একার দায়িত্ব নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলের ‘আপনা-আমার’ দায়িত্ব।’
উপউপাচার্য (প্রশাসন) ড. মো. কামাল উদ্দীন বলেন, ‘এত সুন্দর আয়োজন করার জন্য আমি চাকসুকে কৃতজ্ঞতা জানাই। চাকসু যখন এই প্রোগ্রামের কথা আমাদের জানায়, আমরা তা সাদরে গ্রহণ করি। আমরা চাই, শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখুক এবং নিজেদের স্বাস্থ্য ও পরিবেশের প্রতি নজর দিক।’
উপাচার্য ড. মোহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার বলেন, ‘আমি যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব গ্রহণ করি তখন এটি ছিল আবর্জনাপূর্ণ। এখন ক্যাম্পাস পুরোপুরি উন্নত হয়েছে। ক্যাম্পাসকে এখন ক্যান্টনমেন্টের পরিবেশের সঙ্গে তুলনা করা যায়। শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসকে প্রাণমুখর করে তুলেছে। তাই এত সুন্দর পরিবেশ তৈরি করার জন্য আমি চাকসু এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ধন্যবাদ জানাই। পরিচ্ছন্নতা শুধু ময়লা তোলার বিষয় নয়, এটি আমাদের সর্বক্ষেত্রে ছড়িয়ে দিতে হবে।’